‘ট্রান্সফর্ম, গ্রোথ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ প্রতিপাদ্যে কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

‘ট্রান্সফর্ম, গ্রোথ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। ব্যাংকের সাত বছরের পথচলার অর্জন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে আধুনিক, গ্রাহককেন্দ্রিক, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের প্রত্যয় নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, শেয়ারহোল্ডার, করপোরেট ক্লায়েন্ট ও অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ট্রান্সফর্ম, গ্রোথ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’ শুধু ব্যাংকের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য নয়; এটি আগামী দিনের পথচলার কৌশলগত অঙ্গীকার। পরিবর্তনকে উন্নতির চালিকাশক্তি, প্রবৃদ্ধিকে মানুষের ও ব্যবসার সম্ভাবনা তৈরির মাধ্যম এবং টেকসইতাকে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ভিত্তি হিসেবে নিয়ে ব্যাংক এগিয়ে যেতে চায়।

তিনি বলেন, কমিউনিটি ব্যাংকের পরিবর্তন শুধু প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চিন্তাধারা, কাজের পদ্ধতি, সেবার সংস্কৃতি এবং গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্কেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হবে। প্রবৃদ্ধির অর্থ শুধু ব্যবসার পরিধি বাড়ানো নয়; ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গ্রাহকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান আরও বিস্তৃত করাও এর অংশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে দক্ষতা ও সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা এবং মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। গ্রাহকসেবা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য হতে হবে মানুষের আস্থা অর্জন এবং সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিউনিটি ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রম আরও অর্থবহ ও জনকল্যাণমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার কার্যক্রম যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। এসব উদ্যোগ ও বিনিয়োগ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে মানুষের বাস্তব প্রয়োজনে কাজে আসা উচিত।

তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশের উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার মাধ্যমে একটি ব্যাংক তার সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। আগামী দিনের পথচলায় কমিউনিটি ব্যাংক আরও আস্থাশীল, দক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান ও পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বিপিএম বলেন, ব্যাংকের অগ্রযাত্রায় শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার দিকনির্দেশনা এবং গ্রাহক ও অংশীজনদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রতিদিন দায়িত্ব পালনকারী মানুষের শ্রম, সততা, নিষ্ঠা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কমিউনিটি ব্যাংকের প্রতিটি অর্জনের পেছনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস প্রচেষ্টার অবদান রয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তনশীল বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, গ্রাহকের পরিবর্তিত প্রত্যাশা এবং অর্থনীতির নতুন বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমিউনিটি ব্যাংককে আরও দক্ষ, উদ্ভাবনী ও মানবিক হতে হবে। মানুষের আস্থা, ব্যবসার সম্ভাবনা এবং দেশের অগ্রগতিকে একসূত্রে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কমিউনিটি ব্যাংকের পরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ফাইন্যান্স) মো. আকরাম হোসেন বিপিএম (সেবা) এবং স্বতন্ত্র পরিচালক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান। বক্তারা ব্যাংকের সুশাসন, দায়িত্বশীল ব্যাংকিং, আর্থিক শৃঙ্খলা, গ্রাহকসেবা এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ব্যাংকিং খাতের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় কমিউনিটি ব্যাংকের দুটি নতুন পণ্য—‘কমিউনিটি বাইক লোন’ ও ‘কমিউনিটি স্বপ্নের বাড়ি’—আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের এসআই থেকে ইন্সপেক্টর এবং সমমর্যাদার নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য চালু করা ‘কমিউনিটি বাইক লোন’ ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক চলাচলের প্রয়োজন মেটাতে মোটরসাইকেল কেনার বিশেষ ঋণসুবিধা। অন্যদিকে ‘কমিউনিটি স্বপ্নের বাড়ি’ মানুষের নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরিকল্পিত আবাসন ঋণসুবিধা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ব্যাংকের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনটি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়। সেরা করপোরেট ক্লায়েন্ট, সেরা ব্রাঞ্চ/সাব-ব্রাঞ্চ এবং সেরা কর্মী হিসেবে নির্বাচিতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ কমিউনিটি ব্যাংকের গ্রাহক, করপোরেট ক্লায়েন্ট ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের মধ্য দিয়ে সাত বছরের অর্জন ও অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতের জন্য নতুন লক্ষ্য ও প্রত্যয় তুলে ধরেছে কমিউনিটি ব্যাংক। ‘ট্রান্সফর্ম, গ্রোথ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি’—এই তিন দর্শনের সমন্বয়ে প্রযুক্তিনির্ভর, গ্রাহককেন্দ্রিক, দায়িত্বশীল ও টেকসই ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মানুষের আস্থা আরও গভীর করা এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় কার্যকর অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্যাংকটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত