৫৫নং সেঞ্চুরিতে বিশাল মাইলফলকে বিরাট কোহলি

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভারতের ব্যাটিং কিংবদন্তি  বিরাট কোহলি। অসাধারণ পারফরম্যান্সে ক্যারিয়ারের ৫৫ তম সেঞ্চুরি হাঁকানোর পাশাপাশি এই ফরম্যাটে ১৫,০০০ রানের অভাবনীয় মাইলফলকে পৌঁছেছেন তিনি। ওয়ানডে ইতিহাসে মহানায়ক শচীন টেন্ডুলকারের পর মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে এই উচ্চতায় পৌঁছালেন কোহলি।

ম্যাচে মাত্র ৪০ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কোহলি। এরপরই একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫,০০০ রান স্পর্শ করার ইতিহাস গড়েন। যেখানে ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারের এই উচ্চতায় পৌঁছাতে লেগেছিল ৩৭৭টি ইনিংস, সেখানে কোহলি এই অবিশ্বাস্য মাইলফলকটি অর্জনে সময় নিয়েছেন মাত্র ৩০৩টি ইনিংস।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৩৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুবমান গিলের ১১০ রানের ইনিংসের পর নিজের তিন অংকের ইনিংস খেলেন কোহলি। ক্যারিবীয় বোলার কার্টির বলে নান্দনিক এক ছক্কায় ৪২তম সেঞ্চুরি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮৬তম) উদযাপন করেন তিনি। পরে সব মিলিয়ে ১০ চারের সাথে ৯ ছক্কা হাকিয়ে ভারতের ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন কোহলি। ৮৮ বলে ১৩৯ রান তুলে অপরাজিত থাকেন তিনি।

'নিজের নতুন সংস্করণ উন্মোচন করাটাই রোমাঞ্চকর'

ম্যাচ শেষে ব্রডকাস্টারদের দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে কোহলি জানান, ক্যারিয়ারের এই অপরাহ্নে এসে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করাই তাকে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত করছে।

"ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে আমাকে একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে—খেলার গতি আরও বাড়ানো এবং এক গিয়ার ওপরে ব্যাট করা। সত্যি বলতে, এটি নিয়ে কাজ করা আমার জন্য বেশ রোমাঞ্চকর ছিল। ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে যখন নিজেকে একটি 'নতুন সংস্করণ'-এ রূপ দিতে হয়, তা আপনাকে নতুন অনুপ্রেরণা দেয়। এটা কেবল ভারতের হয়ে খেলাই নয়, আইপিএল বা যেকোনো ফরম্যাটেই আপনাকে সাহায্য করবে। এটি আমাকে আরও মুক্ত মনে খেলতে সাহায্য করছে এবং সেটাই এখন মাঠে কাজে দিচ্ছে।"

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আগে কোহলির মূল কাজ ছিল চাপ সামলে ইনিংসে স্থায়িত্ব আনা। তবে ২০২৬ সালে এসে সেই ঢঙে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। চলতি বছর ৭ ইনিংসে ৫২৩ রান করা কোহলির স্ট্রাইক রেট দাঁড়িয়েছে ১১৬.৭৪, যেখানে প্রতি ৭.৫৯ বল পরপরই তিনি বাউন্ডারি হাঁকাচ্ছেন।

এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, "আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম—যতক্ষণ ক্ষমতা আছে, ততখন ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব। তাই আমি এভাবেই খেলা চালিয়ে যেতে চাই, তবে তা যেন কোনোভাবেই দায়িত্বজ্ঞানহীন শট না হয়। আক্রমণাত্মক খেলা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন হওয়ার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সীমারেখা আছে। একজন অভিজ্ঞ ও পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলে দলকে কীভাবে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে হয়, সেই কৌশল জানাটা জরুরি।"

নিজের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রসঙ্গে এই রানমেশিন বলেন, "মুক্ত মনে খেলার জন্য আপনার একটি ফিট শরীর দরকার। আমি শারীরিকভাবে ফিট থাকি, যার ফলে খেলাটিকে নিজের মতো করে চিন্তা করার সুযোগ পাই। মূল খেলাটা আসলে মনের ভেতর। আমি কখনোই অতিরিক্ত নেট অনুশীলন করা খেলোয়াড় ছিলাম না। আমার জন্য মূল বিষয় হলো মানসিকভাবে সতেজ থাকা, বর্তমান সময়ে মনোযোগ দেওয়া এবং নিজের সহজাত খেলাটা মাঠে প্রকাশ করা।"

রেকর্ড কিংবা মাইলফলক কখনই তার মূল লক্ষ্য ছিল না উল্লেখ করে কোহলি যোগ করেন, "আমার নজর কখনই কোনো নির্দিষ্ট রেকর্ড বা মাইলফলকের দিকে ছিল না। দলের চাহিদা অনুযায়ী নিজের কাজটা সঠিকভাবে করে যাওয়াটাই মূল বিষয়। অর্জনগুলো এর সঙ্গেই চলে আসে। এত দীর্ঘ সময় ধরে খেলে যেতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করি। নিজের মাথা নিচু রেখে কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া আর আমাকে যা কিছু দেওয়া হয়েছে তার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানানোই আমার কাজ।"

তিনি আরও আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, "যেখান থেকে শুরু করেছিলাম, সেই অতীতকে মনে রাখাটা জরুরি। খ্যাতি, জনপ্রিয়তা ও ভক্তদের ভালোবাসার ভিড়ে আমরা প্রায়ই শিকড় ভুলে যাই। কিন্তু ছোটবেলার সেই শুরুর দিনগুলোর দিকে তাকালে হৃদয় কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে। ভারতের হয়ে প্রতিটা মুহূর্ত আমি উপভোগ করি, কারণ এমনও হতে পারত যে আমি আজ এখানে দাঁড়িয়েই থাকতাম না। কোনো দিন ভারতের হয়ে খেলাই হতো না! কিন্তু আমি সেই স্বপ্নটা বাঁচছি, দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি এবং ভক্তদের মুখে হাসি ফোটাতে পারছি—এর চেয়ে পাওয়ার আর কিছু হতে পারে না।"

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত