৭১ শতাংশ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ এএম

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ২৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯০টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যা মোট বিদ্যালয়ের প্রায় ৭১ শতাংশ। ফলে অধিকাংশ বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, শ্রেণি পাঠদান, শিক্ষকদের তদারকি, শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দ্রুত শূন্য পদ পূরণ না হলে প্রাথমিক শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার মোট ২৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। মাত্র ৭৭টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বেশিরভাগ বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কিংবা সহকারী শিক্ষকের চলতি দায়িত্বে। ফলে প্রধান শিক্ষক নয়, নতুন করে সহকারী শিক্ষকের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কারণ চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় বিদ্যালয়ে কার্যত একজন করে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে আছে।

অনেক ক্ষেত্রে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম, শৃঙ্খলা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত মামলা জটিলতায় পদগুলো শূন্য রয়েছে। উপজেলায় ৩৬ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য এক হাজার ৩৪২ জন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। চলতি দায়িত্বে থাকা ৩০ জন সহকারী শিক্ষকসহ ১১৫টি সহকারী শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এ কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমেছে, পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশিত হচ্ছে না। প্রশাসনিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশনাল লিটারেসি অ্যান্ড নিউমেরেসি (এফএলএন) কার্যক্রম বাস্তবায়নেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলার তবকপুর ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান বলেন, নিয়মিত প্রধান শিক্ষক ছাড়া একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। দ্রুত পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এসব সমস্যার সমাধান করা হোক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজ ও শ্রেণি পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

কাজলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সব বিদ্যালয়ে পরিস্থিতি এক রকম নয়। কোথাও সমস্যা সৃষ্টি হয় আবার কোথাও হয় না। আমাদের বিদ্যালয়ে পড়ালেখা, ফলাফল ও প্রশাসনিক কাজে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা নেই। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদগুলোতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও ভালো হবে।’

উপজেলার নালারচর সোলেমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের সংকটের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের দেখভাল এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) নারগিস ফাতেমা তোকদার বলেন, ‘আদালতের রায়ে মামলা জটিলতার সংকট কেটেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পদোন্নতির জন্য যোগ্য সহকারী শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিয়েছেন। সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সরকার ও শিক্ষা অধিদপ্তর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত