রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হবে। কয়েকটি চালানে এসব জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাতা রুশ প্রতিষ্ঠান রোসাটম সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী রাশিয়ার কারগো বিমানকে পাকিস্তান তার আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতি দেয়নি। এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে এই বিবৃতি দিল রোসাটম।
বিবৃতিতে বলা হয়, দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের কাজ ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। চুক্তির শর্ত ও প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী কয়েকটি ফ্লাইটে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।
রোসাটমের বিবৃতিতে বলা হয়, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন হবে। তবে কোন তারিখে কোন চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে বা এসব চালানের বিমান রুট কী হবে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে রুশ নকশার তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
এর আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান ২০২৩ সালে বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নভোসিবির্স্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ওই চালানে আনা হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। রোসাটম জানিয়েছে, পুরো সরবরাহ কার্যক্রম প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচি এবং চুক্তির শর্ত অনুসারে সম্পন্ন করা হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রম অব্যাহত