যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ তাইওয়ান সংকট। এই উদ্বেগের মাঝেই গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বেইজিংয়ে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ গত রবিবার ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, শিকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে পারডিউ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্বের নানা দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে। তিনি মূলত সেই প্রসঙ্গ ধরেই একপর্যায়ে চীনের প্রেসিডেন্টকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, বেইজিংও কিছু অস্ত্র কিনতে চায় কি না।’ তবে ট্রাম্পের এই প্রশ্নের জবাবে শি কী বলেছিলেন, সে বিষয়ে পারডিউ বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তবে এই মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দ্রুত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেইজিংয়ের কাছে অস্ত্র বিক্রির কোনো আইনি সুযোগ বা পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই । কারণ ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন ঘটনার পর থেকে চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল মূলত ট্রাম্পের এক ধরনের কৌশলগত দর কষাকষি। পারডিউ জানিয়েছেন, শিং জিনপিংকে ট্রাম্পের অস্ত্র কেনার প্রস্তাবটি মূলত তাইওয়ানকে কেন্দ্র করেই এসেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাইওয়ান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কোনো বদল হয়নি।
চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজের অংশ দাবি করে আসছে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সরবরাহের কঠোর বিরোধিতা করছে। বেইজিংয়ের স্পষ্ট বক্তব্য, এই অস্ত্র বিক্রি আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। গত জুনে চীন তাইওয়ানকে সতর্ক করে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে অথবা সামরিক উপায়ে স্বাধীনতা খোঁজা বৃথা চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। গত বছরের ডিসেম্বরে তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ১১০ কোটি (১১.১) বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছে ওয়াশিংটন। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত পারডিউ বলেন, ১৯৭৯ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রেসিডেন্টের আমলে এটিই ছিল তাইওয়ানের কাছে সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির ঘটনা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য তাইওয়ানের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত মে মাসে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাইওয়ানের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের আরেকটি অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ স্থগিত রেখেছেন তিনি। এটি চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রে দর কষাকষির খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। গতকাল সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, চীন সবসময় তার প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করেছে এবং বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং চির মতে, তাইওয়ান প্রণালিতে বর্তমানে একটি উদ্বেগজনক ও গুরুতর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, চীনের নিজস্ব অর্থনীতি মন্থর হয়ে পড়লেও তারা সামরিক শক্তি বাড়াতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ঢালছে। চীনের নিজস্ব প্রযুক্তি ও যুদ্ধাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়ায় ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির বিদেশি অস্ত্র আমদানি ৭২ শতাংশ কমে গেছে।