বন্ধু দাঁড়াশ

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ এএম

আমাদের সমাজে সাপ নিয়ে ভয় ও ঘৃণার শেকড় বেশ গভীর। পশ্চিমা প্রভাব ও পুরনো কুসংস্কার মিলিয়ে আমরা প্রায় সব সাপকেই শত্রু মনে করি। অথচ বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে পাওয়া সাপের প্রায় ৭০ শতাংশই নির্বিষ। শহরবাসীদের পাশাপাশি বিশেষ করে কৃষকের জন্য সাপ চেনা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, ভুল চেনায় প্রতি বছর অসংখ্য উপকারী সাপ নির্মমভাবে মারা পড়ে।

কৃষকরা সবচেয়ে বড় যে ভুলটি করেন, তা হলো দাঁড়াশ ও কালাচকে গুলিয়ে ফেলা। দাঁড়াশ (Ptyas mucosa) সম্পূর্ণ নির্বিষ। এর গায়ের রং সাধারণত হালকা বাদামি, হলুদ-বাদামি বা জলপাই রঙের হয়। ‘চোখ বড় ও স্পষ্ট, মাথা সরু, শরীর লম্বা ও চিকন। এটি দিবাচর, দিনের বেলায় দ্রুত চলাফেরা করে, গাছে ওঠে এবং সাঁতারও কাটে। থুতনির নিচে কালো দাগ থাকতে পারে এবং লেজ লম্বা ও সরু হয়।’ দাঁড়াশ সাপ ইঁদুর, ছুঁচো, ব্যাঙ ও পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের ফসল রক্ষা করে। একটি দাঁড়াশ সাপ প্রায় তিন বিঘা জমির ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ইঁদুর প্রতি বছর যে পরিমাণ খাদ্যশস্য নষ্ট করে, তার আনুমানিক মূল্য শতকোটি টাকা। তাই দাঁড়াশকে বলা হয় ‘কৃষকের বন্ধু’। এদের নিয়ে যেসব কুসংস্কার প্রচলিত, যেমন লেজে কাঁটা আছে, গরুর দুধ চুষে খায় বা বিষ আছে, সবই ভিত্তিহীন। কোনো সাপই দুধ চুষতে পারে না, কারণ তাদের জিহ্বা বিভক্ত।

অন্যদিকে কালাচ (Bungarus caeruleus) মারাত্মক বিষধর। এর গা চকচকে কালো বা গাঢ় নীলচে এবং ঘাড় থেকে লেজ পর্যন্ত জোড়ায় জোড়ায় সাদা ব্যান্ড বা বলয় থাকে। চোখ ছোট, মাথা চ্যাপ্টা ও শরীর গোলাকার। এটি নিশাচর, রাতে বের হয় এবং কামড়ে প্রায়ই ব্যথা বা চিহ্ন কম থাকে, কিন্তু বিষ অত্যন্ত তীব্র।

সাপ দেখলেই মারার মানসিকতা বদলাতে হবে। দাঁড়াশ দেখলে তাকে বাঁচতে দিন। কালাচ দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিশেষজ্ঞকে খবর দিন। রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমান এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। সচেতনতাই পারে কুসংস্কার দূর করে পরিবেশ ও কৃষিকে রক্ষা করতে। দাঁড়াশ রক্ষা মানেই আমাদের ফসল ও সম্পদ রক্ষা।

 

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত