গ্ল্যামার জগতের ঝকঝকে আলোর পেছনে থাকে এক দীর্ঘ ও চড়াই-উৎরাই পার হওয়ার গল্প। সেই গল্পেরই এক উজ্জ্বল চরিত্র নুসরাত জাহান। ক্যারিয়ারের শুরুতে বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেলিং দিয়ে দর্শকনন্দিত হন। এরপর তাকে দেখা গেছে নাটক ও সিরিজ নাটকেও। তবে বর্তমানে অভিনয়ের পাট চুকিয়ে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন সরাসরি ক্যামেরা আর লাইভ উপস্থাপনায়। তার সাবলীল বাচনভঙ্গি, প্রাণবন্ত উপস্থিতি যেকোনো লাইভ শো-কে করে তোলে রঙিন।
ফরিদপুরের এমএন একাডেমি থেকে শৈশবের পাঠ শুরু করা নুসরাতের মিডিয়া ও সংস্কৃতির প্রতি টান ছিল ছোটবেলা থেকেই। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় বাসায় না জানিয়ে টিফিনের জমানো টাকায় শিল্পকলায় গান শেখার জন্য ভর্তি হন। যদিও পারিবারিক কড়াকড়ির কারণে সেই গান শেখা আর বেশিদূর এগোয়নি। তবে ছোটবেলা থেকেই গ্ল্যামার জগৎ, পত্রিকার বিনোদন পাতা আর ফ্যাশনের প্রতি তার এক অদ্ভুত মুগ্ধতা কাজ করত।
পারিবারিক শত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৬ সালে বাংলা লিংকের বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান নুসরাত। তবে সেটিও হয়েছিল এক আকস্মিক ঘটনায়; মূল মডেলের অনুপস্থিতিতে শেষ মুহূর্তে স্পটে সুযোগ পান তিনি। এরপর আরও কিছু টিভিসি, ম্যাগাজিন ফটোশুট ও এফ এ সুমনের মিউজিক ভিডিওতে কাজের সুযোগ হয়। অভিনয় নিয়েও কিছু অভিজ্ঞতা জমা হয় ঝুলিতে। ‘লেডি গোয়েন্দা’ নামের একটি সিরিজেও অভিনয় করেছেন তিনি।
তবে উপস্থাপনায় তার সত্যিকারের যাত্রা শুরু হয় সিটি এফএম-এ প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জনের পর। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মোহনা টিভিতে সংগীতানুষ্ঠান ‘মোহনার সকাল’-এর মাধ্যমে তিনি প্রথম সরাসরি উপস্থাপনায় নাম লেখান। এরপর থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
জাতীয় পর্যায়ের বৃহৎ আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’-এর বিভিন্ন পর্বে দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন নুসরাত, যা তার ক্যারিয়ারে যোগ করে নতুন মাত্রা। বর্তমানে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব টিভিতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ‘সংগীতা’, ‘রক অ্যান্ড রোলস’, ‘আপন আলোয়’ (টক শো) এবং নিয়মিত তর্ক-বিতর্ক প্রতিযোগিতার উপস্থাপনা করছেন। বিজয় টিভিতে প্রতিদিন রাতের ‘সিনেমা গান’, মোহনা টিভিতে ‘মোহনার সকাল’, আরটিভিতে শিশুদের জন্য ‘টিফিন ব্রেক’, এটিএন বাংলায় ‘গানবাজ জুনিয়র’ এবং চ্যানেল এসের ‘মিউজিক্যাল লাইভ’-এ নিয়মিত দেখা যায় তাকে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নুসরাত নিজেকে গড়ে তুলেছেন এক পরিণত উপস্থাপক হিসেবে। আজ আর পরিচালকের নির্দেশনার জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয় না, বরং যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো অনুষ্ঠানে মাইক্রোফোন হাতে নিলেই তিনি সঞ্চালনার রাশ টেনে ধরেন নিজের শক্ত হাতে। সংগীতের প্রতি ছোটবেলার সেই অপূর্ণ অনুরাগ থেকেই আজও মিউজিক্যাল প্রোগ্রামগুলোকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন তিনি। ক্যামেরার সামনে ও পেছনের নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এখন উপস্থাপনা নিয়েই তার দিনরাত ব্যস্ততায় কাটে।
দেশের প্রতিটি চ্যানেলে এক অনবদ্য উপস্থাপক হিসেবে সবসময় কাজ করে যেতে চান নুসরাত জাহান।