এমপি নজরুল রিমান্ড শেষে কারাগারে

ন্যাম ভবনে বারান্দায় ঘুমাতেন মরিয়ম

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ এএম

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন সংসদ ভবনের উল্টোদিকে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটের শয়নকক্ষের বারান্দায় ঘুমাতেন বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। মরিয়মকে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আসামি গাজী নজরুলকে জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য পেয়েছেন বলে গতকাল সোমবার আদালতকে জানিয়েছেন।

মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর (দল থেকে বহিষ্কৃত) সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আট দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুলকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম জামিনের আবেদন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।

রিমান্ডফেরত প্রতিবেদনে বলা হয়, নজরুল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে, অনেক প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং ভিকটিম মরিয়ম আত্মহত্যার সময় আসামিরা পাশের রুমে অবস্থান করেছিল, সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া আসামি জামিন পেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে উল্লেখ করা হয়।

আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম রিমান্ডে বলেছেন যে, মামলার বাদী (মরিয়মের বাবা এস এম মাছুম বিল্লাহ) তার আত্মীয় এবং সম্পর্কে ভাগনে। মরিয়ম সম্পর্কে আসামির নাতনি। নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলেই বাদীর বাসায় রাত যাপন করতেন এবং সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। সেই সুবাদে মরিয়মের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে এবং নজরুল ইসলাম মরিয়মকে বিয়ে করেন। গত ১৭ জুন নজরুল ইসলাম মরিয়মকে ধর্মীয় নিয়মে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করেন।

আবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম এবং এই মামলার ২ নম্বর আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলামের (নজরুলের প্রথম স্ত্রী) সঙ্গে ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন গাজী নজরুল। বসবাস করাকালে মরিয়ম মাঝেমধ্যে নজরুলের শয়নকক্ষের পাশে ব্যালকনিতে (বারান্দায়) ঘুমাতেন। তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ড শেষে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর ভিকটিম মরিয়মের মামা ও নজরুলের মামাশ^শুর ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠিনোর আদেশ দেয় আদালত।

গত বুধবার এসআরবি মিরপুর এলাকা থেকে ওবায়দুরকে গ্রেপ্তার করে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন মরিয়মের বাবা এসএম মাসুম বিল্লাহ। বাদী অভিযোগ করেন নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত