সাইবার সুরক্ষা আইন দমনমূলক হবে না

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ এএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬’ কোনোভাবেই দমনমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। সাইবার আইনে সাংবাদিকদের হয়রানিও করা হবে না উল্লেখ করে বলেন, এই আইনের অপব্যবহার থেকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার  সচিবালয়ে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া আইনের বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।  এ সময় আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামও উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইটি বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম পেশাজীবী, মানবাধিকার সংস্থা এবং অন্য অংশীজনদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার পরই সরকার বিলটি চূড়ান্ত করবে। অধিকতর আলোচনার বিষয়ে মন্ত্রিসভার নির্দেশনার পর জনমত সংগ্রহের জন্য খসড়াটি ইতিমধ্যেই সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী এবং সাইবার-স্পেস ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মতামত পাওয়া  গেছে এবং সরকার তা পর্যালোচনা করছে। তিনি আরও বলেন, সভায় আলোচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ছিল কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা তাকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা। সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা ১৫ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ জমা দেবেন এবং এরপর খসড়ায় তা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। মানুষ যাতে অনির্দিষ্টকাল ধরে আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার মামলা ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনাও করছে। পরামর্শ প্রক্রিয়া সমন্বয়ের জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তাকে (পিআইও)  ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডাক,  টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়  যৌথভাবে এটি তদারকি করবে। পরবর্তী ধাপে গণমাধ্যম সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন এবং তাদের সাত থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সুপারিশগুলো পর্যালোচনার পর সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে পুনরায় সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা মতামত জানানোর আরেকটি সুযোগ পান। মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে বিলটি আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যাবে। ‘অনুমোদিত হলে সেটি সংসদে উত্থাপন করা হবে।’ সরকার তাড়াহুড়ো করে সংসদে আইনটি পাস করবে না বরং চূড়ান্ত করার আগে সংসদীয় আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরে বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে উঠে আসা মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হবে। প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও স্থানীয় সংস্কৃতি সমুন্নত রাখার পাশাপাশি দেশ ও দেশের নাগরিকদের বিশেষ করে তরুণদের সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষার জন্য ভারসাম্যপূর্ণ একটি কাঠামো তৈরি করা।

সভায় ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রস্তাব করেন, আইনটি যেন সাংবাদিকদের ওপর বিরূপ প্রভাব না ফেলে এবং এতে ‘সেভিং ক্লজ’ (সুরক্ষা বিধান)-সহ যথাযথ সুরক্ষাকবচ অন্তর্ভুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ও সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আরও আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত