নাহিদ ইসলাম বললেন

আইনশৃঙ্খলা ঠিক নেই জনগণের কাছে স্পষ্ট

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ এএম

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই। এ জন্য বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়। গতকাল সোমবার এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের (পলিটিক্যাল কাউন্সিল-পিসি) জরুরি সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রহসনমূলক সংবিধান সংশোধনী কমিটি, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাতিসংঘ সফর, বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি আছেন, তিনি তার দায়িত্ব পালনে এরই মধ্যে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথা বলছেন। সংস্কার ইস্যুতেও তিনি জাতির সঙ্গে প্রতারণামূলক কথা বলেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সংসদে যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি তখন এটা পল্টনের বক্তব্য, এটা রাজপথের বক্তব্য এবং এরকম নানা কিছু বলে কথা এড়িয়ে যেতেন এবং এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করতেন। জনগণের কাছে স্পষ্ট যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা দুটি রাজধানীতে হওয়ায় হয়তো মিডিয়া বা নানা কারণে সামনে এসেছে। কিন্তু সারা দেশের পরিস্থিতি এটাই। বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশের আরও বেশি অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এ জন্য বর্তমান সরকার, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা সম্ভব নয়।

এনসিপির আহ্বায়ক উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে প্রায় আড়াই হাজার চাকরি প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সন্ত্রাসী সংগঠন ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম এ ধরনের কোনো সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ নেই। এমনকি যারা আন্দোলনের সহযোদ্ধা ছিলেন, এরকম অনেককেও বাদ দেওয়া হয়েছে। এই চাকরিপ্রার্থীদের পাশে এনসিপি আছে। যদি একজন চাকরিপ্রার্থীকে অন্যায়ভাবে এই চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়, আমরা তাদের জন্য লড়ব।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের ভাষণ নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণে জনগণের প্রত্যাশা উঠে আসেনি। সেখানে তিনি তার দলীয় যে ইশতেহার ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন এই ধরনের অনেক কিছু বলেছেন, যেটা অলরেডি দেশে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট, হরমুজ প্রণালি নিরাপত্তা, আমরা যেন জ্বালানি পাই সেটা তিনি তুলে ধরতে পারেননি। সীমান্ত হত্যা, পুশ ইন, ভারতে গণহত্যাকারী হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া, সেখানে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেখানে প্রেস ব্রিফিং করছে এবং দিল্লি সরকার এটা হতে দিচ্ছে। দিল্লির এই যে আগ্রাসী রূপ, প্রধানমন্ত্রী এটা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারতেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু নির্বাচন দফায় দফায় পেছানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন দলীয়করণ করে নির্বাচনকে সরকার নতুন বন্দোবস্তের চেষ্টা করছে। এটা স্পষ্টভাবে বলব, যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ন্যূনতম আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে আমরা জাতীয় নির্বাচনের মতো দেশের স্থিতিশীলতার কথা ভেবে বসে থাকব না। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করব।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দেখছি যে সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে একটি কমিটি করা হয়েছে। সংশোধনের নামে সংস্কারের আকাক্সক্ষাকে ধূলিসাৎ করার একটা চেষ্টা হচ্ছে। আমরা চাই মৌলিক সংস্কার। এর আগেও ১৭ বার সংশোধন হয়েছে। কোনোটাই মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনেনি। আমরা বলব যে, দ্রুত সময়ে এই নাটক বন্ধ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত