তুরস্কের বিপক্ষে মাঠে নেমেই ১১১ বছরের পুরোনো এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো ইতালি ফুটবল। আগের ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে হারের ধাক্কা সামলে রবার্তো মানচিনির দল শুধু দুর্দান্ত এক জয়ই তুলে নেয়নি, বরং দুই ভাই পিয়ো ও সেবাস্তিয়ানো এসপোসিতোর একসঙ্গে শুরুর একাদশে নামার বিরল রেকর্ডে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে আজ্জুরিরা। বুরসায় তুরস্কের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে নিজেদের ১৪ ম্যাচের অপরাজিত ধারাও অক্ষুণ্ণ রাখল তারা।
আগের ম্যাচে হতাশ হয়ে ফিরলেও কোচ রবার্তো মানচিনির দ্বিতীয় অধ্যায়ে নিজেদের প্রথম জয়ের দেখা পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি আজ্জুরিদের। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইতালি। ম্যাচের নবম মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে বক্সে জটলার ভেতর থেকে দুর্দান্ত শটে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো বাস্তোনি।
এরপর একের পর এক আক্রমণে তুরস্কের রক্ষণ দুর্গ কাঁপিয়ে দেয় অতিথিরা। ২২তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ওয়ান-টাচ পাসিং মুভ থেকে মাইকেল কাওদের শট গোলরক্ষক ফেরালেও ফিরতি বলে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দাভিদে ফ্রাত্তেসি। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর পিয়ো এসপোসিতোর পাস থেকে নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের আন্তর্জাতিক অভিষেকটিকে স্মরণীয় করে রাখেন ডিফেন্ডার মাইকেল কাওদে।
বিরতির পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্বাগতিক তুরস্ক। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর বারিষ ইলমাজ একটি গোল শোধ করে ব্যবধান কমান (৩-১)। তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কিছুক্ষণ পর সান্দ্রো তোনালির জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড পিয়ো এসপোসিতো। এতেই বড় ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইতালি।
তবে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় ছিল এসপোসিতো ভাইদের একাদশে থাকা। ২১ বছর বয়সী ছোট ভাই পিয়ো এসপোসিতো আগেই জাতীয় দলের হয়ে খেললেও, এই ম্যাচে ইতালির জার্সিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে তার বড় ভাই ২৪ বছর বয়সী সেবাস্তিয়ানো এসপোসিতোর।
ইতালির ফুটবল ইতিহাসে এর আগে দুই ভাই জাতীয় দলে একসঙ্গে খেললেও, একসঙ্গে শুরুর একাদশে খেলার ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ১১১ বছর আগে, ১৯১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আলদো ও লুইজি সেভেনিনি জুটি মাঠে নেমেছিলেন। শুধু তাই নয়, তাদের আরেক বড় ভাই সালভাতোরে এসপোসিতো ২০২২ সালে এক ম্যাচে খেলায় এই প্রথম তিন ভাই ইতালির সিনিয়র দলের প্রতিনিধিত্ব করার অনন্য এক ‘হ্যাটট্রিক’ পূর্ণ করলেন।
ভাইয়ের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে পিয়ো ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সিনিয়র দলের হয়ে আমার প্রথম ম্যাচের কথা ভালোভাবেই মনে রেখেছি, কারণ এটি ঠিক গত বছরই ছিল, তাই আমি তার কাঁধে অতিরিক্ত কোনো চাপ দিতে চাইনি। আমি আশা করি সে এটি পুরোপুরি উপভোগ করেছে। তার সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া সত্যিই চমৎকার ছিল এবং আমি আশা করি ভবিষ্যতে আরও বহুবার এমন করার সুযোগ পাবো।’
অন্যদিকে, বেলজিয়ামের কাছে হারের পর দল নিয়ে সমালোচকদের মুখে কুলুপ এঁটে দেওয়ার মতো এই জয়ে দারুণ সন্তুষ্ট কোচ রবার্তো মানচিনি। সংবাদ সম্মেলনে সমালোচকদের একহাত নিয়ে আজ্জুরিদের কোচ বলেন, ‘এই ছেলেরা জয়ের যোগ্য ছিল, বিশেষ করে গত তিন দিনে অনেকেই যা বলছিল (তার প্রেক্ষিতে)। তারা ওই ধরনের কথার যোগ্য ছিল না। আমরা একটি দীর্ঘ যাত্রার মধ্যে আছি। এই জয় ছাড়াও ছেলেরা সত্যিই কিছু দারুণ কাজ করেছে।’
গ্রুপ পর্বের এই জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল ইতালি। আগামী শুক্রবার পরবর্তী ম্যাচে টেবিলের শীর্ষ দল ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে মানচিনির শিষ্যরা, যা তাদের আসল শক্তির বড় এক পরীক্ষাও বটে।
না খেলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশও, প্রতিপক্ষ কারা?