বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফার কোষাগার থেকে সদস্য দেশগুলোর জন্য বাড়তি আর্থিক সহায়তার দাবি তুলেছিল উয়েফা ও কনকাকাফ। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ফুটবল সংস্থার প্রস্তাবিত ২১০ কোটি ডলার বা প্রায় ২৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকার এই বিশাল অর্থ বিতরণের বিষয়টি এবার আশার আলো দেখতে চলেছে। সেই প্রস্তাবে সায় দিয়ে বাড়তি এই অর্থ বরাদ্দ পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
সোমবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম রয়টার্সের হাতে আসা এক চিঠিতে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন, কঠোর আর্থিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই অনুদান প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আগামী ১৫ অক্টোবর। এই উদ্যোগ চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশসহ ফিফার ২১১ সদস্য দেশ পেতে পারে কোটি ডলারের বাড়তি আর্থিক সহায়তা।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের মাঝামাঝি দিকে, যখন উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দ্রার সেফেরিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টোগ্লিয়ানি যৌথভাবে ফিফার কাছে প্রস্তাব রাখেন যে, ২০২৭-৩০ চক্রে ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশকে নিয়মিত উন্নয়ন তহবিলের বাইরেও অতিরিক্ত অন্তত ১ কোটি মার্কিন ডলার করে দিতে হবে।
তাদের যুক্তি ছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে। ফলে সেখান থেকে ২১০ কোটি ডলার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বণ্টন করলেও ফিফার রিজার্ভ দেড়শ কোটি ডলারের ওপরেই নিরাপদ থাকবে। যদিও এর আগে ফিফার বাণিজ্যিক পরিকল্পনা বা 'ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' প্রজেক্ট নিয়ে কনফেডারেশনগুলোর বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তবে এবার সরাসরি রিজার্ভ থেকে ফান্ড ছাড়ার এই দাবি বেশ জোরালো রূপ নিয়েছে।
উয়েফা ও কনকাকাফের এমন দাবির পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিষয়টি কঠোর আর্থিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের সামনে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখনই কোনো চূড়ান্ত অংকের প্রতিশ্রুতি না দিয়ে তিনি ফিফার নিজস্ব আর্থিক কাঠামোর সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। ছয় মহাদেশীয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে বলেন, ‘মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত, কোনো প্রাথমিক ফি-কে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য অনুমোদিত প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর জন্য এই সম্ভাব্য বাড়তি তহবিল অবকাঠামো ও তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ফিফা সভাপতি মনে করেন, অতিরিক্ত অর্থ ছাড়ার ক্ষেত্রে যেকোনো হঠকারিতা এড়ানো উচিত। স্বচ্ছতা ও অডিট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেই কেবল এই তহবিল বিতরণ করা সম্ভব।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ছয় মহাদেশীয় কনফেডারেশনের সভাপতিদের পাঠানো চিঠিতে ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘আমি পরিমাণের বিষয়ে কোনো পূর্বনির্ধারিত রায় দিচ্ছি না। আমি ফিফার সঠিক শাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়িত্বের সঙ্গে বিতরণ করা সর্বোচ্চ স্তরের অতিরিক্ত তহবিলকে সমর্থন করব, যা ন্যায্যভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং স্বচ্ছ ও নিরীক্ষযোগ্য ব্যবস্থার দ্বারা সমর্থিত হবে।’
নাহিদ রানাকে নিয়ে শঙ্কা নেই, বোলিং করবেন আজ