চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নরশিয়া গ্রামে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ৩০টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতবাড়ির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও ল-ভ- হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে নরশিয়া গ্রামের মোহাম্মদ ইয়াহিয়ার বাড়িতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মোহাম্মদ ইয়াহিয়া (৪৭) নরশিয়া গ্রামের ইসহাক আলীর ছেলে ও স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মুসার ভাতিজা বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাত ৮টার দিকে ইয়াহিয়ার বাড়ির একটি ঘরে মাটির নিচে মজুদ রাখা ৩০টি ককটেল একযোগে বিস্ফোরিত হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ঘটনার পর থেকে বাড়ির লোকজন পলাতক আছেন।
স্থানীয়রা জানান, একযোগে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে এবং ঘরটির বিভিন্ন অংশ বিধ্বস্ত হয়। একসঙ্গে বিকট শব্দে ককটেলগুলো বিস্ফোরিত হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির মালিক ইয়াহিয়া নিজেও জামায়াতের একজন সমর্থক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত সংলগ্ন নির্মাণ হওয়া নতুন সাঁকো এলাকার একটি মাছের জলাশয় বা ঘের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিবদমান পক্ষের সঙ্গে ইয়াহিয়ার বিরোধ চলে আসছিল। আবার অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্যও ককটেল মজুদ রাখা হয়ে থাকতে পারে।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, ‘রাতে ককটেল বোমাগুলো বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বোমাগুলো ঘরের মধ্যে একসঙ্গে রাখা হয়েছিল। হঠাৎ করেই এগুলোর বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরণে ঘরের ওপরের চাল উড়ে গেছে’। তিনি আরও বলেন, ‘মাছের ঘের নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছিল। আমি দুদিন আগেই প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলার মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপনও করেছি।’
বিজিবি’র ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান জানান, জহুরপুর সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নরশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ককটেল বিস্ফোরণের পর বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ককটেলগুলো কীভাবে সেখানে এলো এবং এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত তা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’