সরকারি ক্রয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থাপিত বাণিজ্যিক বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সা নির্ধারণ করা হলেও ছাদে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ কিনতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দাম নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। একই দেশে সৌরবিদ্যুতের সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে দামের এই পার্থক্যর ঘটনা ঘটল মাত্র মাসের ব্যবধানে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এক আদেশে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আদেশ অনুযায়ী, ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ক্ষেত্রে ৭ টাকা ১১ পয়সা। এ দরে বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।
অন্যদিকে, সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরকারের কাছে বিক্রির জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দাম নির্ধারণ করেছে। ফলে বাণিজ্যিক কেন্দ্রের ক্ষেত্রে যে দামে বিদ্যুৎ কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে, ছাদে সৌরবিদ্যুতের জন্য তার চেয়ে বেশি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসির আদেশে আরও বলা হয়েছে, কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী একক কোনো প্রতিষ্ঠানের গ্রিড বা সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করলে তাকে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২২০০ পয়সা ওপেন অ্যাক্সেস ট্যারিফ (টিওএটি) দিতে হবে।
তবে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিতরণ লাইন ব্যবহার করলে পৃথকভাবে প্রতি ইউনিটে পিডিবি পাবে ৭০ পয়সা, পল্লী বিদ্যুৎ ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ডিপিডিসি ৮৫ পয়সা, ডেসকো ৯৯ পয়সা, ওজোপাডিকো ৮৭ পয়সা এবং নেসকো ১ টাকা ০৪ পয়সা করে পাবে। এর সঙ্গে কেউ সঞ্চালণ লাইন ব্যবহার করলে তাকে আরও ৩৮ পয়সা করে দিতে হবে।
সিঙ্গেল বায়ার হিসেবে পুরো সিস্টেম মনিটরিং করার জন্য পিডিবি পাবে ৫ পয়সা করে। বাণিজ্যিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনকারীকে নিজ দায়িত্বে গ্রাহক সংগ্রহ করতে হবে। তবে উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০ শতাংশ সরকার কিনবে। কোনো সময় নির্দিষ্ট গ্রাহক বিদ্যুৎ নিতে না চাইলে সেই বিদ্যুৎ সাময়িক সময়ের জন্য পিডিবি কিনে নেবে। কেন্দ্র স্থাপন, গ্রাহক সংগ্রহ ও পরিচালনাসহ সব ধরনের কাজ বিনিয়োগকারীকে নিজ দায়িত্বে করতে হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে গত বছরের অক্টোবরে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর নীতি, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। এ নীতিতে বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সৌর, বায়ু, জীবভর ও বর্জ্যসহ পরিচ্ছন্ন উৎসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সবুজ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য বিইআরসির উৎপাদন লাইসেন্স নিতে হবে। আইন বা নীতিমালা পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতি হলে সরকারি সুরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।