পেঁপে মৌসুমি সবজি হলেও এখন সারা বছরই পাওয়া যায় কমবেশি। পেঁপে দুভাবেই খাওয়া যায়। কাচা পেঁপে দিয়ে সালাদ ও তরকারি হিসেবে। তেমনি পাকা পেঁপে ফল হিসেবে কিংবা জুস তৈরি করে। পেঁপের উপকারিতা অনেক। তাই প্রতিদিনকার খাদ্য তালিকায় পেঁপে রাখুন।
নিয়মিত পেঁপে খেলে হৃদযন্ত্রের নানা সমস্যা, যেমন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায় অনেকটাই। যাদের কানে ঘন ঘন ইনফেকশন হয় তারা পেঁপে খেয়ে দেখতে পারেন, উপকার পাবেন। পেঁপে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ সবজি, তাই পেঁপে ত্বকের লাবণ্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে ও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। পেঁপে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম, পানি ও দ্রবণীয় ফাইবার। ফলে হজমের সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা নিয়মিত খেতে পারেন পাকা বা কাঁচা পেঁপে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও পেঁপের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চিনির পরিমাণ কম
থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেঁপে একটি আদর্শ সবজি। যাদের ডায়াবেটিস নেই, তাদেরও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেঁপে রাখা উচিত। পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং কপার রয়েছে, তাই নিয়মিত পেঁপে খেলে হাড় মজবুত হয় ও হাড়ের ব্যথা সহজেই কমে যায়।
আমাদের ব্যস্ত জীবনে স্ট্রেসের সমস্যায় আক্রান্ত আমরা প্রায় সবাই। পেঁপেতে থাকা ভিটামিন সি স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। ফলে রোজকার স্ট্রেস ও সারাদিনের ক্লান্তি এক নিমেষে দূর করে দিতে পারে এক প্লেট পেঁপে! এ ছাড়া পেঁপে ক্যানসার প্রতিরোধক হিসেবেও প্রমাণিত। পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনোক্সিড, যা দেহে ক্যানসারের কোষ তৈরিতে বাধা দেয়। পেঁপের বিটা কেরোটিন উপাদান প্রতিরোধ করে কোলন ক্যানসার ও প্রস্টেট ক্যানসার।
শরীরের পাশাপাশি রূপচর্চাতেও পেঁপের জুড়ি মেলা ভার! কাঁচা পেঁপে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পুরো মুখে নিয়মিত লাগান। এতে ব্রণের সমস্যা তো কমবেই, সঙ্গে ব্রণের দাগও চলে যাবে মুখ থেকে। পেঁপেতে থাকা প্যাপিন মৃত কোষ দূর করে ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে তোলে। পেঁপে বাটা পায়ের ফাটা দূর করে পা-কে মসৃণ করতেও সাহায্য করে। তা ছাড়া, চুল শ্যাম্পু করার আগে চুলে পেঁপে বাটা বা পেঁপের রস লাগালে মুক্তি পাবেন খুশকির সমস্যা থেকেও।