ইরানের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১ এএম

উপসাগরীয় অঞ্চলে সাত মাসের যুদ্ধ অবসানে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জবাব পাওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও গত বুধবার তেহরানের কর্মকর্তারা জবাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সেই জবাবে ঠিক কী রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মহাজেরানি জানান, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশন থেকে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন বার্তাটি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে হস্তান্তর করেছেন। বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের চেষ্টা করব এবং ইরানি জনগণের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব। এই চুক্তিটি এখন উভয়পক্ষের জন্য সমান লাভজনক কৌশলের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান জানায়, দুই পক্ষের আলোচনায় অচলাবস্থা কাটাতে তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলো থেকে তাদের নৌ-অবরোধ সরিয়ে নেবে আর ইরান সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করবে। এই আলোচনার বিষয়ে অবহিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, আরাগচি নিউ ইয়র্ক থেকে তেহরানে ফেরার পথে মঙ্গলবার দোহায় যাত্রাবিরতি করেছিলেন, তখন কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ার বিষয়টি অবহিত করেন। এই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী- যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া দরকার সেগুলোর বিষয়ে পক্ষ দুটি অনেকাংশেই একমত, কিন্তু সেগুলো কী ক্রমানুযায়ী গ্রহণ করতে হবে তা নিয়ে এখনো দ্বিমত রয়ে গেছে।

তবে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধির পথে হাঁটছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরান, হংকং ও পাকিস্তানে অবস্থিত ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অস্ত্র ও উপাদান সংগ্রহের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেন। এই প্রতিনিধিদলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি ও দ্বিতীয় আরেক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে যাওয়ার পর গত সোমবার এ ঘটনা ঘটে। রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কূটনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদলটির শিগগিরই দেশের পথে রওনা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কূটনৈতিক দিক থেকে রুবিওর এই অস্বাভাবিক পদক্ষেপে দুদেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রতিফলিত হয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুবিওর নির্দেশ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আরাগচি ও অন্য ইরানি কর্মকর্তারা নিউ ইয়র্ক থেকে কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশে রওনা হন। তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের দাবি ছিল, তারা এমনিতেই শিগগিরই নিউ ইয়র্ক ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত