সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চার ‘মদের গুদাম’ সিলগালা

সম্প্রতি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা ও তার ব্যাংক হিসাব তলবের পর এই অভিযান জোরদার হলেও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই ব্যবস্থার সঙ্গে সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিপরিসরের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন 'টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড'-এর দুটি বৈধ এবং দুটি অননুমোদিতসহ মোট চারটি শুল্কমুক্ত মদের গুদাম সিলগালা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীররাতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) যৌথভাবে দক্ষিণ গুলশানের এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে।

নিয়ম অনুযায়ী বন্ডেড ওয়্যারহাউজ থেকে কেবল বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিক ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই শুল্কমুক্ত মদ কিনতে পারেন। কিন্তু টস বন্ডের বিরুদ্ধে খোলাবাজারে চড়া দামে এসব শুল্কমুক্ত পণ্য বিক্রির অভিযোগ ওঠায় দীর্ঘদিন ধরেই অনুসন্ধান চলছিল। অভিযানের সময় এনবিআর অনুমোদিত দুটি গুদামের পাশাপাশি আরও দুটি অননুমোদিত গুদামে বেআইনিভাবে পণ্য মজুত রাখার গুরুতর অসংগতি খুঁজে পায়। ফলে অবৈধ অপসারণ রোধ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়।

একইসঙ্গে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট ক্যানাডীয় কর্তৃপক্ষের সাহায্য নিয়ে নুর ইসলাম ও তার পরিবারের সন্দেহজনক আর্থিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম ও মেয়ে তাসনিম ইসলামের বিদেশে নাগরিকত্ব থাকা, সেখানে অন্তত চারটি কোম্পানির মালিকানা এবং বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সংগ্রহ করা ১৬৩টি আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করে ১৭টি সন্দেহজনক লেনদেন, বড় অঙ্কের নগদ জমা ও ট্রান্সফারের তথ্য মিলেছে। এছাড়া এক বছরেই প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্য পেয়েছে তদন্তকারীরা।
 

সম্প্রতি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা ও তার ব্যাংক হিসাব তলবের পর এই অভিযান জোরদার হলেও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই ব্যবস্থার সঙ্গে সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিপরিসরের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
 
তাদের মতে, কর ফাঁকি, বৈদেশিক নাগরিকত্ব গোপন এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের পুরোনো অনিয়মের ধারাবাহিক অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই এনবিআর, ভ্যাট ও আয়কর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে এ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে এ ঘটনার সার্বিক তদন্ত ও বিস্তারিত যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত