হিলিতে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় রুহুল আমিন ও শুকুর আলি নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে হিলির পালপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এঘটনায় জড়িত আরও দুইজন পলাতক রয়েছেন। 

গ্রেপ্তাররা হলেন ওই এলাকার রুহুল আমিন (৪২) ও শুকুর আলি (৫৫)।

পলাতকরা হলেন বড়ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ফেরদৌস মিয়া (৫০) ও পালপাড়া এলাকার মোস্তাকিম হোসেন (৪৫)।

মামলার এজাহার বলা হয়, ভুক্তভুগি ওই গৃহবধূর (২০) কাছ থেকে রুহুল আমিন নামের ব্যক্তি সাত হাজার টাকা ধার নেন। পরবর্তীতে ধারের টাকা ফেরত চাইলে কালক্ষেপন করতে থাকে। এক পর্যায়ে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে রুহুল আমিন নামের ওই ব্যক্তি ভুক্তভুগিকে তার নিজ বাড়িতে ডেকে নেয়। একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করে এবং গোপনে সেই চিত্র ধারণ করে। পরে চেতনাশক মিশ্রিত জুস খাইয়ে গৃহবধূকে অচেতন করে শুকুর, ফেরদৌস ও মোস্তাকিম নামে আরও তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এসময় আসামিরা তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে আবারও পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এভাবে তিনদিন ধরে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করে অভিযুক্তরা।

এদিকে ভুক্তভুগি বাড়ি ফিরে না আসায় আত্নীয়-স্বজনরা সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে তার সন্ধান পায়নি। ৩ অক্টোবর রাতে কৌশলে আসামির বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে পরিবারের কাছে বিষয়টি খুলে বলে ভুক্তভুগি। পরবর্তীতে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কৌশলে আবারও তাকে ধর্ষণের জন্য আসামিরা রুহুল আমিনের বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় গ্রামের লোকজন রুহুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে হাতেনাতে রুহুল আমিনসহ শুকুরকে ধরে ফেলে। এসময় ফেরদৌস ও মোস্তাকিম কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের থানা নিয়ে যায়। এঘটনায় ভুক্তভুগির মা বাদী হয়ে চারজনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাদশা আলম জানান, রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুইজনকে দিনাজপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভুগিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য দুই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত