বাকৃবির বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্ভিদবৈচিত্র্যের সবুজ ভান্ডার

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০২ এএম

‘প্রকৃতি কন্যা’ নামে পরিচিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শুধু কৃষি ও উচ্চশিক্ষার জন্যই নয়, তার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের জন্যও দেশের অন্যতম ব্যতিক্রমী ক্যাম্পাস। পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে থাকা বোটানিক্যাল গার্ডেনটি সেই বৈচিত্র্যের অন্যতম বড় উদাহরণ। ১৯৬৩ সালে ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ গার্ডেন বর্তমানে উদ্ভিদ সংরক্ষণ, শিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, গার্ডেনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ প্রজাতির ভাসকুলার উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪১০ প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। সংরক্ষিত উদ্ভিদের মধ্যে বিরল, বিপন্ন ও হুমকির মুখে থাকা বেশ কিছু প্রজাতিও রয়েছে। ফলে গার্ডেনটি উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণেরও গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। গার্ডেনে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির উদ্ভিদের দেখা মেলে। আজুলি, আতমরা, আভোকাডো, আফ্রিকান টিউলিপ, অনন্ত লতা, আরুসা, এলেনা, এপিকাক, কাইজেলিয়া, কাইকা, কানথাকাশ, কানসুনালু, কালোমেঘ, ক্যাকটাস, ফার্ন কড়ই, কালাহুজা, কুম্ভি, কুলানজান, কোকুয়া, খামি, খারাজুরা, খুসখের, গুটগুটিয়া, গানিয়ারি, গালমরিচ, গার্ডেনিয়া, গ্রিলিরিচিডা, চাগাল্লাদি, বিক্সা চান্দুল, জ্যাকারান্ডা, জয়ত্রী, জয়পাল, টাবেবুইয়া, তিথিজাম, ডেরিস, ডুমবিয়া ও ডুরিয়ানসহ রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ। এ ছাড়া নাগেশ্বরচাপা, নাগনাথ, নাক্সভোমিকা, নদাজাম, নিলকান্ত, নিলচিতা, পাটেনজাবা, পাটিপাটা, পারসিমন, প্যাশন ফ্রুট, পাহাড়ি কাশ, পানিকলমি, বন্য খেজুর, বনজারি, বানকলা, বুধানারিকেল, ব্রানফেলসিয়া, ব্যামবুস, রাজ অশোক, শাল, সিন্দুরি, সুলতানচাপা, সর্পগন্ধা, স্বর্ণঅশোক, সাতকরা, স্কাফেলারা, হানি সাকল, হারগুজা কান্তা ও হলুদ কাঞ্চনসহ আরও অনেক উদ্ভিদ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছেও গার্ডেনটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততার বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, হাঁটাহাঁটি কিংবা একা কিছুটা সময় কাটাতে অনেক শিক্ষার্থী এখানে আসেন। ব্যস্ত ক্যাম্পাসজীবনের মাঝে তাই বোটানিক্যাল গার্ডেনটি শিক্ষার্থীদের জন্য হয়ে উঠেছে কিছুটা সময় নিজের মতো করে কাটানোর একটি জায়গা। রয়েছে বিশ্রাম বেঞ্চ। নদীর পাড়ঘেঁষা এসব বেঞ্চে বসে পুরনো ব্রহ্মপুত্রে চলাচল করা নৌকার দৃশ্যও উপভোগ করা যায়। গার্ডেনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা উদ্ভিদ সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান এখানে। এমএস ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণাতেও গার্ডেনের উদ্ভিদসম্ভার ব্যবহার করা হয়। উদ্ভিদ শনাক্তকরণ, সংরক্ষণ ও বিভিন্ন প্রজাতি নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

বাকৃবির বোটানিক্যাল গার্ডেন তাই একসঙ্গে উদ্ভিদ সংরক্ষণ, শিক্ষা, গবেষণা ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের কাছে এটি যেমন অবসর কাটানোর পরিচিত জায়গা, তেমনি গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদভান্ডার। পুরনো ব্রহ্মপুত্রের তীরে গড়ে ওঠা এই গার্ডেন বাকৃবির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়।

লেখক : শিক্ষার্থী, দ্বিতীয় বর্ষ, ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত