বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী হঠাৎ গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
নয়াদিল্লি থেকে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রের উল্লেখ করে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দ্বিপক্ষীয় অন্যান্য ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান মনোভাব কী, সেই বার্তা পৌঁছে দিতে হাইকমিশনার সেখানে গেছেন। নয়াদিল্লির স্থানীয় সময় গতকাল দুপুর ১টা নাগাদ মোদির সঙ্গে হাইকমিশনার সাক্ষাৎকার করেন। এর আগে গত সোমবার রাতে ত্রিবেদী ঢাকা থেকে নয়াদিল্লি পৌঁছান। তবে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে হাইকমিশনারের সাক্ষাতের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দীনেশ ত্রিবেদীর গত এক মাসে এটি দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে তিনি হঠাৎ ঢাকা থেকে উড়ে গিয়ে গত ১১ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ভারত সরকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথের পর পরই দেশটিতে সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বাংলাদেশের কূটনীতিকরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ভারত সরকার গত আগস্টে তারেক রহমানকে নয়াদিল্লিতে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিলেও ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, ভারত একটি তারিখ প্রস্তাব করলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে কখনোই চূড়ান্ত সম্মতির কথা জানানো হয়নি।
কূটনৈতিক কয়েকটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, নয়াদিল্লি থেকে যেসব ইঙ্গিত আসছে তাতে আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য ভারত সরকারের আগ্রহের আভাস মিলছে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ঢাকায় গত সোমবার সাংবাদিকদের জানান, ভারতে সফরের পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটি সফর করবেন।
কূটনীতিকরা বলছেন, দিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গত দুই বছর ধরে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে। তবে ‘আইনি প্রক্রিয়ার’ অজুহাতে ভারত সরকার বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখায় তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রবল অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে।