লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের প্রত্যেককে ভিজিএফের ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে বরাদ্দ করা চাল লুটপাট না করে সঠিক তালিকা তৈরি করে দ্রুত জেলেদের মধ্যে বিতরণের দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে ৫৪ হাজার জেলে নিবন্ধিত রয়েছেন। এসব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ৪২ হাজার ১৫০ জনকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও ১১ হাজার ৮৫০ জন জেলে এখনো ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন না। পর্যায়ক্রমে তাদের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এই ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। জেলেদের সচেতন করতে নদী ও উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং, পোস্টারিংসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ।

জেলেরা জানান, জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষা ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা মেনে তারা নদীতে যাবেন না। তবে জেলেদের পুনর্বাসনের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। নিবন্ধিত জেলের তুলনায় সরকারি খাদ্য সহায়তা কম দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল লুটপাট না করে সঠিক তালিকা তৈরির মাধ্যমে দ্রুত তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ সময়ে জেলেদের ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এরপরও কেউ আইন অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত