জমি নিয়ে বিরোধে সাংবাদিকের মা-বাবাকে মারধর, থানায় মামলা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

কুড়িগ্রাম সদরে জমি নিয়ে বিরোধে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগের মা ও বাবাকে মারধর, শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এঘটনায় বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহারে জানা গেছে,সদর উপজেলার পলাশবাড়ী এলাকার ৪ দশমিক ১৬ শতক জমি নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই জমি তামজিদ হাসান তার বাবা আমিনুল ইসলাম ক্রয়সূত্রে পাওয়ার পর প্রায় ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম সদর সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মামলাও চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ সোমবার (৫ অক্টোবর) সাংবাদিক তামজিদ হাসানের বাবা-মা তাদের কেনা জমিতে গাছের চারা রোপণ করতে যান। আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়া আসামিরা বাঁশের লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাদের বাধা দেন। কোনো কিছু বুঝার আগে রমজান আলী বাঁশের লাঠি দিয়ে আমিনুল ইসলামের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। এরপর কয়েকজন মিলে লোহার রড দিয়ে আমিনুল ইসলামকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে মামুনুর রশিদ মামুন তার বুকের ওপর বসে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় শামসাদ বেগম এগিয়ে এসে আমিনুল ইসলাম রক্ষার চেষ্টা করলে তাকেও চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করেন এবং রমজান আলী তার পড়নের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন।

এসময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। একপর গুরুতর আহত আমিনুল ইসলামকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্ত্রী শামসাদ বেগম স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এবিষয়ে সাংবাদিক তামজিদ হাসান বলেন, বিবদমান জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। সেখানে বিবাদীরা আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। তারা আমার বাবা-মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। আমি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।

কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিবাদী পক্ষও আরেকটি মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত