নভেম্বরের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণে ব্যাংকগুলোকে তাগাদা

২১ বছর বা তার কম বয়সী তরুণ উদ্যোক্তাদের ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

ক্ষুদ্র, কুটির ও অতিক্ষুদ্র (সিএমএসএমই) ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) তহবিল দ্রুত বিতরণ করতে ব্যাংকগুলোকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এ তহবিলের অর্থ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ডেপুটি গভর্নরের উপস্থিতিতে সিএমএসএমই খাতের জন্য চুক্তিবদ্ধ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৪টি ব্যাংক ও ৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মাসরুর আরেফিন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এর আওতায় ক্ষুদ্র, কুটির ও অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কম সুদে চলতি মূলধনের ঋণ দেওয়া হবে। গত ১০ সেপ্টেম্বরের দিকে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চুক্তি সই করে ঋণ বিতরণ শুরু হয়। তবে প্রথম দুই সপ্তাহে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে।

তিনি বলেন, ৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করতে নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আমাদের তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এটি খুবই ভালো একটি স্কিম। প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সাশ্রয়ী সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বৈঠকে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিভাগের কয়েকটি নির্বাচিত জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট) প্রকল্পটি চলছে। তবে এ প্রকল্পে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান মাসরুর আরেফিন।

তিনি বলেন, ‘উদ্যোগ’ প্রকল্পের প্রচারণা উপজেলা, ইউনিয়ন ও জেলা পর্যায়ে আরও বাড়ানোর জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সিএসআর তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা এবং ঋণ হিসেবে আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ২১ বছর বা তার কম বয়সী তরুণ উদ্যোক্তাদের এ প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

এদিকে বন্ধ ও অর্ধবন্ধ শিল্পকারখানা চালু করতে সরকারের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের অর্থ বিতরণে ব্যাংকের অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে মাসরুর আরেফিন বলেন, ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার কোনো প্রশ্নই আসে না। তবে ঋণ দেওয়ার পর যেন নতুন করে খেলাপি ঋণ তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা কাউকে সহায়তা করতে গিয়ে আবার নতুন করে একটি খারাপ ঋণ তৈরি করতে চাই না। শুধু লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য ঋণ বিতরণ না করে অর্থবহ ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

বন্ধ, অর্ধবন্ধ কিংবা সক্ষমতার তুলনায় কম উৎপাদনে থাকা কারখানাগুলোকে সহায়তা করতে ব্যাংকগুলো কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অর্থায়নের জন্য উপযুক্ত প্রকল্প পাওয়া বর্তমানে কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ব্যাংকগুলো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলেই এ অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছে। ফলে জনগণের অর্থ যাতে প্রকৃত উদ্যোক্তা ও প্রয়োজনীয় খাতে পৌঁছায়, সেটিই ব্যাংকগুলোর লক্ষ্য।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত