নোবেল পাওয়ার যোগ্য হলেও পাওয়ার বিষয়ে সন্দিহান ট্রাম্প

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য তিনি। তবে ২০২৬ সালের পুরস্কারটি শেষ পর্যন্ত তিনি পাবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।  

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে এখনো কোনো শান্তিচুক্তি করাতে না পারার মধ্যেই বুধবার (৮ অক্টোবর) এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আগামী শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ঘোষণা করবে। পুরস্কারটি প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, 'তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে, আমি জানি না। তাদের একটা সুনাম আছে—আমার মতো মানুষকে হয়তো তারা পুরস্কার দেয় না।'

গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি তার প্রাপ্য।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'এখন বোধ হয় সেই সময় এসেছে।' একই সঙ্গে তিনি গতবারও পরোক্ষভাবে এই সম্মান পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলেছিলেন, ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউ এই পুরস্কারের যোগ্য নন।

গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পকে দেন। ভেনেজুয়েলায় নিজের রাজনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। 

গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এসব উদ্যোগের কারণে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত।

কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করার কোনো উপায় নেই।

এদিকে, ট্রাম্প যেসব সংঘাতের সমাধান করেছেন বলে দাবি করেন, সেসবের কয়েকটির পক্ষই তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি কিছু অঞ্চলে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতিও এখনো পূরণ করতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর গত সাত মাস ধরে চলমান উত্তেজনা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং গ্যাসের দাম বেড়েছে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক চাপও তৈরি করেছে।

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকও রয়েছেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত