বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) গতকাল শুক্রবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ পালন করেছে। ইনস্টিটিউটের পোলট্রি রিসার্চ সেন্টারের আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়।
বিএলআরআই গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় বর্ণাঢ্য একটি র্যালি বের করে। র্যালিতে বিএলআরআই-এর সর্বস্তরের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি বিএলআরআই-এর পোলট্রি রিসার্চ সেন্টার প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে বিএলআরআই এর অভ্যন্তরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে পোলট্রি রিসার্চ সেন্টারসংলগ্ন ফটক এলাকায় পথচারীদের মধ্যে ডিম বিতরণ করা হয়।
শোভাযাত্রার পর বিএলআরআই সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন কেন্দ্রীয় গোপ্রজনন ও দুগ্ধ খামার, সাভার এর পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পোলট্রি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার। তিনি তার উপস্থাপনায় বিশ্ব ডিম দিবস পালনের ইতিহাস, তাৎপর্য ও গুরুত্ব, ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও গুরুত্ব এবং বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প ও ডিম উৎপাদনের অতীত ও বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হালিমা খাতুন। আলোচনা পর্বে অংশ নেন সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. কামরুননাহার মনিরা এবং ডেইরি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রাকিবুল হাসান। উন্মুক্ত আলোচনায় আলোচকরা ডিমের উৎপাদন বাড়ানোয় গুরুত্ব আরোপের পাশাপাশি ডিম থেকে বিভিন্ন ধরনের মানসম্পন্ন খাদ্য (ভ্যালু অ্যাডেড প্রোডাক্ট) উৎপাদন ও এক্ষেত্রে খাদ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম জোরালো করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মানুষকে জানাতেই ডিম দিবসের সূচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ডিম গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে। বিএলআরআই এর বিজ্ঞানী-গবেষকরা যদি গবেষণার ফল প্রচারের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন, তবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দ্রুত গবেষণার ফল জানতে পারবে।
ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশনের উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় প্রথম ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ পালন শুরু হয়, যা পরে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বাংলাদেশসহ সারা বিশে^ পালিত হয়ে আসছে। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ডিমে পুষ্টি ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগ মুক্তি’।