জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে আজ সেঞ্চুরির পর আর ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি ঢাকা বিভাগের ব্যাটার নাঈম শেখ। কনুইয়ে ব্যথা অনুভব করায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তবে তার ১৩১ রানের ইনিংসে ভর করে সিলেটের বিপক্ষে দিনটা ভালোভাবেই শেষ করেছে ঢাকা। ২ উইকেটে ৩৪৩ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে দলটি।
দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করার পর কনুইয়ে ব্যথা অনুভব করেন নাঈম। এ কারণে আর ঝুঁকি না নিয়ে মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঢাকা বিভাগের কোচ মিজানুর রহমানের আশা করছেন, আগামীকাল আবার ব্যাটিংয়ে নামতে পারবেন এই ওপেনার। মাঠ ছাড়ার আগে নাঈম খেলেছেন ২১৫ বল। ৩২৮ মিনিটের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১১টি চার ও ৩টি ছক্কায়। তাঁর সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ১৫৫ রান যোগ করেন জিসান আলম। ১৩২ বলে ৮১ রান করে সাজঘরে ফেরেন জিসান।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পরও রানের গতি ধরে রেখেছে ঢাকা। মার্শাল আইয়ুব ১১১ বলে ৮০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা এই ব্যাটারের সঙ্গে দিন শেষ করেছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তাঁর সংগ্রহ ৫৩ বলে অপরাজিত ৩২ রান। সিলেটের হয়ে দুটি উইকেটই নিয়েছেন নাসুম আহমেদ।
এদিকে মিরপুরে ৬ উইকেট নিয়েছেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। জাপানে এশিয়ান গেমস খেলতে যাওয়ার কারণে এনসিএলের প্রথম রাউন্ডে ছিলেন না মেহেদী। ফেরার ম্যাচে গতকাল মিরপুরে রাজশাহীর ব্যাটারদের একেবারেই সুবিধা করতে দেননি তিনি। ১১৯ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন সাব্বির হোসেন। এসএম মেহরবের ব্যাট থেকে আসে ২১ রান। এই দুই ব্যাটারের পাশপাশি অধিনায়ক প্রিতম কুমার, শাকির হোসেন, সানজামুল ইসলাম ও নিহাদ উজ জামানের উইকেট তুলে নেন মেহেদী। এনিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯ বার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন এই স্পিনার। তার সঙ্গে সফর আলী তিনটি ও সামিউন বশির রাতুল ১ উইকেট শিকার করেন।
এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ১ উইকেটে ১০৮ রান তুলেছে খুলনা। উদ্বোধনী জুটিতে এনামুল হক বিজয় ও আজিজুল হাকিম ৪৪ রান করেন। ৩৭ বলে ২২ রান করে ফেরেন বিজয়। অন্য প্রান্তে দারুণ ব্যাটিংয়ে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তামিম। ৯৯ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। কালাম সিদ্দিকী অপরাজিত ২৮ রানে। হাতে ৯ উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে রাজশাহীর চেয়ে মাত্র ১১ রানে পিছিয়ে খুলনা।
সিলেটের আরেক মাঠে ময়মনসিংহ বিভাগের বিরুদ্ধে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর বিভাগও ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহের পথে রয়েছে। মিম মোসাদ্দেকের ১৫৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং ইকবাল হোসেনের ৭৮ রানে গড়ে ওঠে দ্বিতীয় উইকেটে ২০৮ রানের জুটি।
পরে আবদুল্লাহ আল মামুনের ৬১ রান ও অধিনায়ক আকবর আলীর ৩০ রানের সৌজন্যে প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেটে ৩৭০ রান করেছে রংপুর। ময়মনসিংহের হয়ে গালিব ও আজিজুল হাকিম রনি দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।