‘সবাইকে গ্রেপ্তার করুন’: মোদীকে চ্যালেঞ্জ রাহুলের

রাহুল বলেন, ‘খলনায়কদের চারপাশে ধীরে ধীরে জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে। আমরা সেই জায়গা বন্ধ করে দিচ্ছি।’ 

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে হাজার হাজার মানুষকে আটকের ঘটনায় মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমন ও গণতন্ত্র ক্ষুন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী নেতারা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। খবর দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন-এর। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পথে রাজধানীজুড়ে ধরপাকড় চালায় দিল্লি পুলিশ। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এর আগে সকালের আরেক হিসাবে পাঁচ হাজার আটকের কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যে এক্সে একটি ভিডিও বার্তা দেন রাহুল গান্ধী। সেখানে তিনি বলেন, এই মানুষগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো কাপুরুষতা। তিনি নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে এই গল্পের খলনায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাহুল বলেন, ‘খলনায়কদের চারপাশে ধীরে ধীরে জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে। আমরা সেই জায়গা বন্ধ করে দিচ্ছি।’ তিনি বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি মোদী ও আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়ছেন। সরকার ভয় পেয়ে বিক্ষোভ দমন করছে।

 

এদিন আটকের পর থানায় ধর্নায় বসেন সাবেক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মধ্য দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে বাড়ি থেকে বের হতে না দেওয়ায় তিনি বাসস্ট্যান্ডে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। মুখে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে প্রতিবাদ করেন। পরে পুলিশ তাকে ও তার পাঁচ সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেনসহ অন্যদের ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। বাসের ভেতর থেকে তিনি বলেন, সরকার দুর্ব্যবহার করছে, ইন্ডিয়া জোট লড়াই চালিয়ে যাবে।

শনিবারের বিক্ষোভের পটভূমি তৈরি হয় ভোর থেকেই। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয়। পুলিশ আগে থেকেই অনুমতি দেয়নি।

সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে মুম্বাই থেকে আসা বিমান দিল্লিতে নামতেই বিমানের ভেতরে ঢুকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়। পরে তাদের তিনটি আলাদা জায়গায় নেওয়া হয়। দীপকে আগে থেকে রেকর্ড করা ভিডিওতে বলেন, জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধীও এমন করেননি। আটক হলে অজিঙ্ক শিন্দে নেতৃত্ব দেবেন।

এরপর আটক হন চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার। কেজরিওয়ালের বাড়ি সকাল থেকে ঘিরে রাখা হয়েছিল। আইসার সভাপতি নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী, মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী এবং বহু আইনজীবীকেও আটক করা হয়। সবাইকে ছত্রসাল স্টেডিয়ামের অস্থায়ী আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে ধরপাকড় ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতিবাদে সরব হন ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের একাধিক পরিচিত মুখ। মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ চলাকালে আটক হয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। শনিবার মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দান থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে যন্তর মন্তরগামী রাস্তায় সাত স্তরের ব্যারিকেড, ঝালাই করা প্রাচীর, স্টিলের কাঁটা, বডিক্যাম ও ড্রোন বসানো হয়। ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়, যার মধ্যে রাজীব চক, পটেল চক ও কাশ্মীরি গেট রয়েছে। ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও নিজামুদ্দিনে আসা সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়। হোটেল ও এয়ার বিএনবিতে তল্লাশি চালানো হয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিল। বৈঠকের পর রাহুল বলেন, রাষ্ট্রপতি ভোট চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেননি। তবে সূত্র বলছে, এই দাবি সঠিক নয়। বিরোধীরা সোমবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে স্মারকলিপি দেবেন এবং বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত