দুনিয়ার সফলতা ও পরকাল ভাবনা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪০ এএম

সফলতা মানবজীবনের অনন্য প্রত্যাশা। প্রতিটি মানুষই সফল হতে চায়। তবে সফলতার সংজ্ঞা নির্ধারণে আমরা অনেকেই মনে করি, অঢেল অর্থসম্পদ, আয়েশি জীবনযাপন, উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন, সম্মান ও সুখ্যাতি লাভ করাই সফলতা। মোদ্দা কথা, দুনিয়ায় স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাসের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে উত্তম ও সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করাকেই আমরা সফলতা মনে করি। কিন্তু প্রকৃত সফলতা হচ্ছে দুনিয়াবি সাফল্যের পাশাপাশি পরকালীন মুক্তি ও রবের সন্তুষ্টি অর্জন।

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু পরকালীন জীবন চিরস্থায়ী। ক্ষণস্থায়ী জীবনের সফলতার পেছনে ছুটতে গিয়ে আমরা অনেকেই পরকালীন জীবনের কথা বিস্মৃত হচ্ছি। অথচ মহান আল্লাহ বলেন, ‘বরং তোমরা পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দাও। অথচ আখেরাত উত্তম ও স্থায়ী।’ (সুরা আলা ১৬-১৭) সফলতার প্রকৃত সংজ্ঞা কোরআন ও হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হলো।

জান্নাতের নেয়ামত অর্জন : জান্নাতের নেয়ামত অর্জনই প্রকৃত সফলতা। দুনিয়ার চাকচিক্যের পেছনে অবিরাম ছুটতে গিয়ে যারা জান্নাতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তারা প্রকৃত সফল নয়। বরং প্রকৃত সফল তারাই, যারা জান্নাতের প্রত্যাশায় দুনিয়ার প্রতিটি পরিস্থিতিতে রবকে স্মরণ রেখেছে এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট থেকেছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই সফলকাম হবে।’ (সুরা আলে ইমরান ১৮৫)

মুমিনরাই প্রকৃত সফল : কোটি কোটি টাকার সম্পদ কিংবা বিলাসবহুল জীবনযাপন কোনোটিই প্রকৃত সফলতার পরিচায়ক নয়। বরং প্রকৃত সফল তারাই, যারা মুমিন। যাদের হৃদয় সদা দীপ্ত থাকে ইমানের আলোয়, যাদের অন্তর জাগ্রত থাকে আল্লাহ ও তার রাসুলের ভালোবাসায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে।’ (সুরা মুমিনুন ১)

আত্মশুদ্ধিই সফলতার মাপকাঠি : অন্তরকে পাপ-পঙ্কিলতা, হিংসা, অহংকার ও মন্দ প্রবৃত্তি থেকে পবিত্র করে সুচিন্তা, সৎকর্ম ও উত্তম চরিত্রে নিজেকে গড়ে তোলার প্রক্রিয়াই হলো আত্মশুদ্ধি। আর আত্মশুদ্ধিই প্রকৃত সফলতার অন্যতম মাপকাঠি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফলকাম হয়েছে, যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে সেটাকে কলুষিত করেছে।’ (সুরা শামস ৯-১০)

আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য : বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমরা যার যত বেশি সম্পদ, উচ্চশিক্ষা, সম্মান ও প্রতিপত্তি দেখি, সেটাকেই মহাসফল হিসেবে আখ্যায়িত করি। কিন্তু কোরআনের ঘোষণা হলো, যে আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করে, সেই প্রকৃত সাফল্যের অধিকারী। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করল, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল।’ (সুরা আহজাব ৭১)

তাকওয়াপূর্ণ হৃদয় : যার হৃদয় মহান আল্লাহর ভয়ে নতজানু, যে মহান আল্লাহর ভয়ে গুনাহের পথে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকে, প্রকৃত সফলতা তারই জন্য। কারণ তাকওয়া মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য ও নেক আমলের পথে পরিচালিত করে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা বাকারা ১৮৯)

সফলতা মানে কেবল দুনিয়াবি সাফল্য অর্জন নয়, বরং জান্নাতের নেয়ামতের অধিকারী হওয়া, মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া, আত্মশুদ্ধির পথে অবিচল থাকা, মহান আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করা এবং তাকওয়াপূর্ণ জীবন গঠন করাই হলো প্রকৃত সাফল্য।

লেখক : শিক্ষক ও ইসলামি গবেষক

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত