মহান আল্লাহ মানুষকে নানা উপায়ে পরীক্ষা করেন। কখনো সম্পদ দিয়ে, কখনো দারিদ্র্য দিয়ে, আবার কখনো নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে। মানুষের ইমান ও আনুগত্য প্রকাশ পায় এসব পরীক্ষার সময়। কোরআনে বনি ইসরাইলের একটি সম্প্রদায়ের এমনই এক পরীক্ষার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তাদের জন্য শনিবার ছিল বিশেষ দিন। ওই দিনে মাছ শিকার করা তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু মাছের প্রাচুর্য তাদের জন্য পরীক্ষাকে কঠিন করে তুলেছিল।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের কাছে সমুদ্র তীরবর্তী জনপদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো। তারা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করত। যখন শনিবারে তাদের কাছে পানির ওপর মাছ ভেসে আসত এবং শনিবার ছাড়া অন্য দিন আসত না। এভাবে তারা অবাধ্যতা করত বলে আমি তাদের পরীক্ষা করেছিলাম।’ (সুরা আরাফ ১৬৩)
মুফাসসিরদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই জনপদটি সমুদ্রের তীরে অবস্থিত ছিল। সেখানকার মানুষের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম ছিল মাছ শিকার। মহান আল্লাহ তাদের শনিবারে মাছ শিকার করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তাদের জন্য পরীক্ষাটি ছিল কঠিন। কারণ শনিবারে মাছগুলো প্রচুর পরিমাণে পানির ওপর ভেসে উঠত এবং তাদের সামনে উপস্থিত হতো। অথচ অন্য দিনগুলোতে মাছ এভাবে আসত না।
এ পরিস্থিতিতে তাদের অনেকে আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করে। তারা এমন ব্যবস্থা করে, যাতে শনিবারে মাছগুলো আটকে রাখা যায় এবং পরে সেগুলো শিকার করা যায়। বাহ্যিকভাবে তারা হয়তো বলত, শনিবারে মাছ ধরেনি। কিন্তু বাস্তবে তারা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে মাছ শিকারের ব্যবস্থা করেছিল।
কোরআনে তাদের এই সীমালঙ্ঘনের পরিণতিও তুলে ধরা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল তারা যখন সে বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করল, তখন আমি তাদের বললাম, তোমরা নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও।’ (সুরা আরাফ/১৬৬)
শনিবারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একদল মানুষ সীমালঙ্ঘন করলেও আরেক দল তাদের অন্যায় থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছিল। তারা নিজেদের দায়মুক্তি ও তাদের তাকওয়া অবলম্বনের আশায় উপদেশ দিয়েছিল। পরে আল্লাহ সতর্ককারীদের উদ্ধার করেন এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের অবাধ্যতার কারণে কঠিন শাস্তি দেন।
এই ঘটনার প্রথম শিক্ষা হলো, আল্লাহর নির্দেশ পালনে কোনো ধরনের কৌশল করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো কাজ সরাসরি করা নিষিদ্ধ হলে সেটার নাম বা পদ্ধতি পরিবর্তন করে সেটাকে বৈধ বানানো যায় না। আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক কাজের পাশাপাশি তার নিয়ত ও উদ্দেশ্যও জানেন।
দ্বিতীয় শিক্ষা হলো, পরীক্ষার সময় সুযোগের প্রাচুর্যও বিপদের কারণ হতে পারে। মাছ তাদের সামনে প্রচুর পরিমাণে এসেছিল। তারা চাইলে ধৈর্য ধরতে পারত। কিন্তু সহজে পাওয়া সুযোগ তাদের অনেককে অবাধ্যতার দিকে নিয়ে যায়। তাই কোনো কিছু হাতের কাছে থাকা মানেই তা গ্রহণ করার অধিকার থাকা নয়।
তৃতীয় শিক্ষা হলো, সমাজে অন্যায় দেখলে তা থেকে মানুষকে সতর্ক করা জরুরি। কেউ অন্যায় করছে দেখে নীরব থাকা উচিত নয়। সামর্থ্য ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী তাকে ভালো কাজে উৎসাহিত এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত করার চেষ্টা করতে হবে।