কর্তাদের গাফিলতি-দুর্নীতি ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ এএম

শনিবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিট। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের প্রবেশপথে তখন চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়। হ্যান্ডমাইকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা ঘোষণা দিচ্ছিলেন, ঠিক বেলা ১১টায় কলেজের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হবে, এরপর আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু মিনিট তিনেকের ব্যবধানে বদলে গেল দৃশ্যপট। একই মাইকে ঘোষণা এলো, অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।

তখনো প্রবেশপথে অপেক্ষা করছিলেন ৩০-৪০ জন পরীক্ষার্থী ও তাদের স্বজন। ঘোষণা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। পরে অন্য পরীক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। মাসের পর মাস প্রস্তুতি, আবেদনের খরচ, দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসার ব্যয় সবকিছু যেন মুহূর্তেই অর্থহীন হয়ে গেল।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় এমন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারও চাকরিপ্রার্থী। অথচ পরীক্ষার আগেই একজন প্রার্থীর কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক প্রার্থী দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন সরবরাহ থেকে শুরু করে উত্তরসহ কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি। তার দাবি, এ জন্য দিতে হতো ২৫ লাখ টাকা।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের মধ্যে পরীক্ষা স্থগিত, বিপুল অর্থের বিনিময়ে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব এবং শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যারা দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন, তাদের এই ভোগান্তির দায় নেবে কে? প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দায়িত্ব যাদের, তাদের ব্যর্থতার মূল্য কেন চাকরিপ্রার্থীদের দিতে হবে?

গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার। রাজধানীর ৯৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। স্থগিত হওয়া পরীক্ষা আগামী ১৬ অক্টোবর নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে একটি কমিটিও। তবে শুধু নতুন তারিখ ঘোষণা কিংবা তদন্ত কমিটি গঠনেই সন্তুষ্ট নন পরীক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস শনাক্ত, নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।

২৫ লাখ টাকায় চাকরির প্রস্তাব : পরীক্ষার আগেই চাকরি নিশ্চিতের প্রস্তাব পাওয়ার দাবি করেছেন এক চাকরিপ্রার্থী। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, পঞ্চগড়ে তার বাসায় এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি নিশ্চিত করার প্রস্তাব আসে। তাকে বলা হয়েছিল, পরীক্ষার আগের রাতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন দেওয়া হবে।

ওই প্রার্থীর ভাষ্য, প্রথমে চক্রের সদস্যরা তাকে তাদের নির্ধারিত একটি জায়গায় নিয়ে রাখার কথা বলেন। তিনি রাজি না হওয়ায় পরে জানানো হয়, পরীক্ষার দিন সকালে তার বাসায় প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে একজন হাজির হবেন। তিনিই তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। এর মধ্যে অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না বলে শর্ত দেওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রস্তাবে রাজি হলে পরীক্ষার আগে মোট টাকার ৫০ শতাংশ দিতে হতো। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে বাকি টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল। তবে তার দাবি, তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হননি।

অন্যদিকে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এ ধরনের চক্রের সদস্যরা একজন প্রার্থীর কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, চক্রের সদস্যদের পরিচয় কিংবা নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পন্ডশ্রম, বাড়তি খরচ, অনিশ্চয়তা : দনিয়া কলেজের প্রবেশপথে কথা হয় ঠাকুরগাঁও থেকে আসা পরীক্ষার্থী শামীম রেজার সঙ্গে। ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৬৮ টাকা দিয়ে পরীক্ষার আবেদন করেছিলাম। যে দোকান থেকে আবেদন করি, তাকে দিতে হয় আরও ২০ টাকা। অনেক স্বপ্ন আর প্রস্তুতি নিয়ে শুক্রবার ঢাকায় এসেছিলাম। বাস ভাড়া গুনতে হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা। এরপর এক বন্ধুর মেসে উঠে সেখান থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছি। এখন পরীক্ষা না দিয়ে পঞ্চগড় ফিরে যেতে আবারও বাস ভাড়া গুনতে হবে। মাঝখানে সব পন্ডশ্রম।’

শামীম বলেন, ‘আমাদের মতো গরিবদের নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তা করে না। প্রশ্নফাঁস হলো, দেখবেন কারও কোনো বিচার হবে না। আমার মতো গরিবদের টিউশনির টাকা জমিয়ে, বন্ধুদের কাছ থেকে ধারদেনা করে চাকরির পরীক্ষা দিতে হয়। আমাদের এই কষ্ট কেউ বুঝবে না।’

শামীমের মতো অনেক প্রার্থীর জন্য একটি নিয়োগ পরীক্ষা কেবল চাকরি পাওয়ার সুযোগ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও সীমিত আয়ের বড় একটি অংশ। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাদের নতুন করে প্রস্তুতি, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপ সামলাতে হবে। দূরবর্তী জেলা থেকে আসা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির মাত্রা আরও বেশি।

সমাধান শুধু নতুন তারিখ ঘোষণায় নয়, দরকার জবাবদিহি : পরীক্ষা স্থগিতের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের দাবি, ১৬ অক্টোবর আবার পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিলেই ঘটনার সমাধান হবে না। প্রশ্নপত্র কীভাবে পরীক্ষার আগে বাইরে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

প্রার্থীদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হলে তার আর্থিক ও মানসিক চাপ পড়ে নিরপরাধ পরীক্ষার্থীদের ওপর। অথচ প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফাঁসের ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দায়িত্ব নিয়োগসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাই তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

পরীক্ষার নতুন তারিখ ১৬ অক্টোবর : প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় স্থগিত হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৬ অক্টোবর। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৬ অক্টোবর বিকেল ৩টায় পরীক্ষাটি পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে বলা হয়, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার আনুষঙ্গিক তথ্য দ্রুতই মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

কমিটি করে তদন্ত শুরু হলেও চাকরিপ্রার্থীদের সংশয় : পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক মাধ্যমে ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে গতকাল ৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের এই কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে প্রশাসন অধিশাখার উপসচিবকে। তদন্ত কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, কমিটি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অভ্যন্তরীণ-বহিঃস্থ সহায়তাকারীদের জবানবন্দি গ্রহণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করবে।

পরীক্ষার্থীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পেছনে কারা, কীভাবে এই প্রশ্ন বাইরে গেল এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা জানাতে হবে। তদন্ত যেন কেবল পরীক্ষা স্থগিতের কারণ নির্ধারণে সীমাবদ্ধ না থাকে; প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় যেন আনা হয়।

এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, প্রশ্নফাঁসে জড়িত আমলা, সরকারি লোক, দলীয় লোক সবাইকে খুঁজে বের করতে হবে। সংশ্লিষ্টতা থাকলে সরাসরি ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার করতে হবে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে ও বিভিন্ন গ্রুপে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে, যার সঙ্গে চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়; ফলে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সার্বিক বিষয়ে জানতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেনকে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. মাজহারুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমিও একটা কেন্দ্র পরিদর্শনে ছিলাম। হঠাৎ করে অনিবার্যকারণবশত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমা দেবে, প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে প্রশ্নফাঁসে কে বা কারা জড়িত।’

ছাত্রদলের প্রতিবাদ : যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। অতীতে প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণিত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার বিপরীতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া গেলে পরীক্ষা স্থগিত করা শ্রেয়তর পদক্ষেপ। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপির প্রতিবাদ : সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে আগামী ১৬ অক্টোবরের নির্ধারিত পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ বা উপযুক্ত প্রতিকারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে দলটি। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানায় এনসিপি। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অভিযোগ সামনে আসার পরও কেন পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো, তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।

ডাকসুর ভিপির প্রতিবাদ : প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অপসারণসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি জানান তিনি। চার দাবির মধ্যে রয়েছে প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত সব সিন্ডিকেট শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে এমন ঘটনা চিরতরে বন্ধ করা; প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা; প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয় বিবেচনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

শিবিরের প্রতিবাদ : ছাত্র শিবিরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতির পর নিয়োগ পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত হওয়া চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য চরম হতাশাজনক। এ ধরনের অনিয়ম সৎ ও মেধাবী প্রার্থীদের সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি তাদের আস্থা নষ্ট করে। যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিতের পরিবর্তে প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতি তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত