সৌদির আকাশসীমায় হামলার হুমকি, যাত্রীদের সতর্ক করল হুথিরা

রবিবার  (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সব বিমান ও নৌপরিবহন সংস্থা, বিশেষজ্ঞ, কর্মী, শ্রমিক এবং যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করার বিষয়ে আবারও সতর্ক করছে।’

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে যাত্রীদের সতর্ক করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এক দিন পর রবিবার (১১ অক্টোবর) এ হুঁশিয়ারি দেয় গোষ্ঠীটি। খবর ডয়েচে ভেলে।

শনিবারের ওই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সব বিমান ও নৌপরিবহন সংস্থা, বিশেষজ্ঞ, কর্মী, শ্রমিক এবং যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করার বিষয়ে আবারও সতর্ক করছে।’

তিনি বলেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং সেগুলো হুতিদের সামরিক অভিযানের আওতায় পড়ে। তবে ইসলামের দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর লক্ষ্যবস্তু করা হবে না বলে জানান তিনি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র সতর্কবার্তাটিকে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শনিবারের হামলায় আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সৌদি আরবকেই দায়ী করেন তিনি।

শনিবারের হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিমানবন্দরটিতে কোনো সামরিক স্থাপনা নেই। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময় বাড়িয়ে রবিবার রাত ৯টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করছে সৌদি আরব

রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের হামলার দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি হুথিরা। তবে সৌদি কর্মকর্তারা ইরান-সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে হামলার জন্য দায়ী করেছেন।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। জোটটি হামলাটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবে হুথিদের হামলার মাত্রা বেড়েছে। এসব হামলায় দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দর, সামরিক স্থাপনা ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর পর হামলার এই তীব্রতা বেড়েছে।

ইরানের আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পরিচিত হুতিরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাতের তীব্রতা কমলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তি সম্ভব হয়নি। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের মধ্যে ইয়েমেনে আবারও সংঘাত বেড়েছে, যা দেশটির আগে থেকেই ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।

রিয়াদে হামলার নিন্দা আন্তর্জাতিক মহলের

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক নেতারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানান, হামলার পর তিনি সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন। হামলাটিকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্যভাবে অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করার কথাও জানান ট্রাম্প।

রবিবার ইউরোপীয় নেতারা রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেন।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে। তিনি এই ঘটনাকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফন ডার লেয়েন বলেন, ‘ইরানের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর এসব হামলা অঞ্চলটিকে সহিংসতার ঘূর্ণাবর্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোকে অস্থিতিশীল করে তুলছে, যার প্রভাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে।’

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুলও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে সৌদি আরব ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘নিহত ও আহত ব্যক্তিদের কথা আমাদের মনে রয়েছে। তাদের স্বজনদের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত