প্রশাসনের আশ্বাসে সাজেকে অবরোধ স্থগিত, পর্যটকদের ভোগান্তি

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, উভয় দিক থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকদের গাড়িবহর আন্দোলনকারীদের অবস্থান নেওয়ার কারণে আটকে যায়। পরে আন্দোলন স্থগিত করলে পর্যটকরা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়।

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র রাঙ্গামাটির সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ বিকাল পাঁচটায় স্থগিত করেছে আন্দোলনকারীরা। সামনে দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় এ পরিস্থিতিতে সাজেকের পর্যটন খাত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছুটির সময়ে পর্যটকদের আগমন বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও অবরোধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পর্যটন ব্যবসায় অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ায় অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।

তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছি, তারা এই বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ স্থগিত করেছি। এর মধ্যে কোনও অগ্রগতি না হলে আবারো অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। তিন দফা দাবির মধ্যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেএসএস সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নিতে হবে, জেএসএসেরা কাউকে মৃত্যু হুমকি দেবে না এবং নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ নিরীহ জনগণের ঘরবাড়ি তল্লাশি করতে পারবে না।

এদিকে অবরোধের কারণে সাজেকে ঘুরতে যাওয়া সহস্রাধিক পর্যটক সকালে স্কর্টে সাজেক ত্যাগ করতে পারেনি। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পর্যটকরা সাজেক ত্যাগ করেন। তবে মাচালঙে আসার পর অবরোধের মুখে পড়ে পর্যটকদের স্কর্ট।

এছাড়া বাঘাইহাট থেকে সাজেকে যাওয়ার পথে গঙ্গারাম উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের অবরোধের মুখে পড়ে সাজেকগামী পর্যটকরা। বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত উভয়দিকের পর্যটকদের আটকে রাখে অবরোধকারীরা। পরে অবরোধ স্থগিতের পর পর্যটকদের স্কর্ট ছেড়ে দেয় আন্দোলনকারীরা।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, উভয় দিক থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকদের গাড়িবহর আন্দোলনকারীদের অবস্থান নেওয়ার কারণে আটকে যায়। পরে আন্দোলন স্থগিত করলে পর্যটকরা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়।

এর আগে শনিবার সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের এ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ব্যবহারকারী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে ধারাবাহিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সামনে দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় সাজেকের পর্যটন খাত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছুটির সময়ে পর্যটকদের আগমন বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও অবরোধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পর্যটন ব্যবসায় অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। এতে পর্যটক, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট মালিক, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, স্থানীয় দোকানদার এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা পর্যটকদের মধ্যেও নিরাপত্তা ও যাতায়াত নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত