কুমিল্লার নাসরুল্লাহ ও বগুড়ায় শাহেদের বাড়িতে কান্নার রোল

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ এএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ মিসাইল হামলায় দুজন বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৩-এ গত শনিবার রাতে এই হামলা চালানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় পাওয়া গেছে।

নিহত ২ জন বাংলাদেশি হলেন বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। দুই পরিবারেই এখন চলছে কান্না আর আহাজারি।

ওমরাহ পালনে গিয়ে প্রাণ গেল নাসরুল্লাহর: পবিত্র ওমরাহ পালনের নিয়তে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন মাওলানা নাসরুল্লাহ। কিন্তু সৌদি আরব পৌঁছালেও তার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল।

নাসরুল্লাহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। ঢালুয়া জামিয়া রবিউল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব ছিলেন। তিনি বাবা-মা, তিন শিশুসন্তান ও স্ত্রী রেখে গেছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবের রিয়াদে যান নাসরুল্লাহ। গতকাল রবিবার বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। মুহূর্তেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে।

নাসরুল্লাহর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী মাহহুবা, সাত বছরের ছেলে জামিল, পাঁচ বছরের মেয়ে নাবিলা ও দুই বছরের ছেলে জায়াজ। এ ছাড়া তার বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ ও মা জাহানারা বেগম রয়েছেন। বাবার মৃত্যুর খবর বুঝে ওঠার আগেই তিন শিশুর জীবনে নেমে এসেছে গভীর অনিশ্চয়তা। স্বজনরা এখন অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার।

নাসরুল্লাহর বড় বোনের স্বামী মাওলানা নাছির উদ্দীন বলেন, আমরা তার মরদেহ দেশে এনে পারিবারিকভাবে দাফন করতে চাই। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

লাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান জানান, মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বাড়ি থেকে ফিরেই প্রাণ গেল শাহেদের : বগুড়ার শাহেদ আহমেদ আশিক এক মাসের ছুটি শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করেন। শনিবার সকাল ৯টার ফ্লাইটে রিয়াদে পৌঁছান। এরপর বিকেল ৫টার দিকে সর্বশেষ কথা হওয়ার পর এখন ফোন বন্ধ। তার খোঁজ মিলছে না।  সৌদিতে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার খবর পাওয়ার পর উদ্বিগ্ন তার পরিবার। নিখোঁজ বাবার খবরের অপেক্ষায় ছেলে কাওছার আহমেদ জিসান (১১)। রবিবার সন্ধ্যায় বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকায় সাহেদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির দরজায় বসে, তার দুই চোখজুড়ে এখন কান্নার নোনাজল গড়িয়ে পড়ছে। শাহেদের নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কায় বাড়িতে চলছে কান্না ও আহাজারি। তখনো তারা জানানেন না তাদের প্রিয় মানুষটি আর বেঁচে নেই। পরে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের তালিকা প্রকাশ করা হলে সেখানে শাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, শাহেদ আহমেদ (আশিক) বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।  তার স্ত্রী কাকলী আর দুই ছেলে কাওছার আহমেদ জিসান (১১) ও আব্দুল্লাহ আল জিহাদকে (৬ বছর) নিয়ে তাদের সংসার। প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে সৌদি আরবে ফেরার পর রিয়াদে পৌঁছে শনিবার বিকেলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না স্বজনরা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। দুই বছর আগে ছেলেকে নিয়ে যান। তার মা শাহেরা আক্তার ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গেছেন।

শাহেদের ভাই মাসুম রানা বলেন, রিয়াদ হয়ে ভাইয়ের কর্মস্থল জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল। রিয়াদে পৌঁছেছেন। সেখান থেকে জেদ্দায় যেতে আরও দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। এরপর ফোন দেবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত