শিশুর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ ১৩ লাখ টাকায় রফাদফা

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মোহাম্মদ আয়ান নামে ৬ বছরের এক শিশুর প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। পরে শিশুর লাশ নিয়ে ওই হাসপাতালের সামনে ১৬ ঘণ্টা বিক্ষোভের পর ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সমঝোতার কথা জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে সংক্ষুব্ধ পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকের পর এ সমঝোতা হয়।

জানা গেছে, বৈঠকে হাসপাতালের ম্যানেজার মো. ইসমাঈল নিহতের স্বজনের কাছে নগদ দুই লাখ টাকা এবং তিন লাখ টাকার একটি চেক ও বাকি ৮ লাখ ২০ অক্টোবরের মধ্যে পরিশোধের অঙ্গীকারে একটি স্ট্যাম্প তুলে দেন।

এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট এলাকার সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে আহত শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শিশুটির অবস্থার অবনতি দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শিশুটির লাশ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন সংক্ষুব্ধ পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সমঝোতার বিষয়টি স্বীকার করে নিহত শিশুর মামা সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৩ লাখ টাকার চুক্তি হয়েছে আমাদের সঙ্গে। আনোয়ারা থানার এসআই মোমেন কান্তি দেব জানান, নিহতের স্বজনরা কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে স্ট্যাম্পে সমঝোতাপত্র সই করে লাশ নিয়ে গেছেন।

এদিকে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. জামশেদ গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেব। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত আয়ান সাতকানিয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আরাফাত ও আনোয়ারার বটতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চাপাতলী সাদেক আলী তালুকদারবাড়ির কুমকুম আকতার দম্পতির একমাত্র ছেলে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, গত বুধবার বিকেল ৫টার দিকে আয়ান তার নানার বাড়িতে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নানের প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মাথায় আঘাত পান। তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনরা তাকে সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মোহাম্মদ আরমান প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

হাসপাতালের এমডি ডা. মিজানুর রহমান বলেন, শিশুটি যে ব্যক্তির গাড়িতে গুরুতর আহত হয়, সে ব্যক্তিও এখানে এসে মব সৃষ্টি করে আমাদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে। আমরা হাসপাতাল রক্ষায় নিরুপায় হয়ে তাদের বেআইনি দাবি মানতে বাধ্য হয়েছি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত