বগুড়ায় বাস টার্মিনালে অভিযান, উচ্ছেদ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম। আগামীতে এই স্থানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে অত্যাধুনিক বাস টার্মিনালের কাজ হবে বলেও জানা গেছে।

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

বগুড়া সিটি কর্পোরেশন (বসিক) মহানগরের চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।

উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম। আগামীতে এই স্থানে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে অত্যাধুনিক বাস টার্মিনালের কাজ হবে বলেও জানা গেছে।

এদিকে অনেকের দাবি এসব স্থাপনার বেশিরভাগই তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা তৈরি করেছিলেন। এ স্থাপনাগুলো সরিয়ে দিতে জেলা বগুড়া জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন মালিক সমিতি সহযোগিতা করেছেন বলেও জানা গেছে।

বগুড়া সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, বগুড়া মহানগরের চারমাথায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল অবস্থিত। এই বাস টার্মিনালের ভেতরে ও প্রাচীর পাশ দিয়ে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি টিন, কাঠ, ইট দিয়ে কাঁচাপাকা ঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছিল। কয়েকদফা তাদের এই স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। তারপরও তারা তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি।

সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসের ২২ তারিখে পুনরায় সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু তারা সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই নিজেদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিল। গতকাল ১১ অক্টোবর ওই এলাকায় বিষয়টি পুনরায় জানানো হয় যে, সোমবার অভিযান পরিচালনা করা হবে। সেই প্রেক্ষিতে দু’টি বুলডোজার দিয়ে সোমবার সকাল ১১টা থেকে অভিযান পরিচালনা করা শুরু করে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। অভিযানে শতাধিক স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়। এবং অনেকে তাদের মালামাল বের করে নিয়ে যান।

সরোজমিনে দেখা যায়, বগুড়া চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের দক্ষিণপাশে প্রাচীর ঘেষে, পূর্ব ও উত্তরধারে টার্মিনালের সীমানার ভিতরে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট তৈরি করা হয়েছিল। এবং পশ্চিমপাশে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল।

বগুড়া বাস টার্মিনালের নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে দাবি করেন, ১০/১২ বছর আগে হটাৎই জোরপূর্বক এসব স্থাপনা নির্মাণ করেছিল রাজনীতি নিষিদ্ধ তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা। যারা এই বাস টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণ করতো।

বগুড়া জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম আরফান জানান, আমরা এখানকার স্থাপনা সরিয়ে নিতে জানিয়েছি। কিন্তু যারা সরায়নি তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সিটি কর্পোরেশন। আমরা তাদের সহযোগিতা করছি। যাতে কোন অবৈধ স্থাপনা এ বাস টার্মিনালে না থাকে। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে আমাদের বাস রাখতে সমস্যা হয়। এখন আমরা আরও ৩/৪শ বাস অনায়াসে টার্মিনালের ভিতরে রাখতে পারব। বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের বাস টার্মিনাল আরও সুন্দর হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বগুড়া সিটি কর্পোরশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমরা এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ চলমান রয়েছে। চারমাথা বাস টার্মিনালে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে আমরা কয়েক দফা নোটিশ পাঠিয়েছি, মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু এখানকার অবৈধ স্থাপনাগুলো কেউ সরিয়ে নেয়নি। আমরা আজও (সোমবার) ১০টায় অভিযান শুরুর কথা থাকলেও মালামাল সরিয়ে নিতে সময় দেয়া হয়। তারপর বেলা ১১টা থেকে অভিযান শুরু করেছি। চারমাথা বাস টার্মিনালের আশপাশে থাকা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই বাস টার্মিনাল ঘিরে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে চারমাথা বাস টার্মিনালটি আধুনিকায়ন করা হবে। যা অত্যান্ত নান্দনিক হয়ে উঠবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত