সমুদ্রসম্পদকে জিডিপির অংশ করে তুলতে হবে

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ এএম

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি বানাতে হলে সমুদ্রসম্পদকে জিডিপির গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। গতকাল সোমবার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের উদ্যোগে ‘প্ল্যানিং পারস্পেক্টিভ অন দ্য ইন্ডাস্ট্রিজ অন দ্য ইমার্জিং ইন্ডাস্ট্রিজ ইন দ্য ব্লু ইকোনমি সেক্টর অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিএমকে লেকচার গ্যালারিতে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবির সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজের পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম (অব.)। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য জাভেদ হোসেন, উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিমসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনীল অর্থনীতি বা সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা সরকারের আরও একটি অন্যতম অগ্রাধিকার খাত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সুনীল অর্থনীতি সেল আছে। তারা চেষ্টা করছেন এই বিষয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তাদের কাজের ভেতর সমন্বয় করে সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার। পাশাপাশি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটি থ্রাস্ট সেক্টর চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাহাজনির্মাণ শিল্প, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন। সরকারের আরেকটি অগ্রাধিকার হলো আমাদের বন্দরগুলোর সঙ্গে আমাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। শুধু সড়ক যোগাযোগ নয়, রেল বা নদীপথকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে আমরা যদি বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি বানাতে হয়, তাহলে সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে জিডিপির গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলতে হবে। তার জন্য যে দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন, সেটি তৈরি করে দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেই। এক্ষেত্রে, সরকারি খাত, উচ্চশিক্ষা খাত, এবং বেসরকারি খাতে এই তিন খাতের মাঝে একটা সমন্বয় বা মেলবন্ধন তৈরি করতে হবে। আইইউবি এবং সেন্টার ফর বে অব বেঙ্গল স্টাডিজকে ধন্যবাদ কারণ তারা তাদের নিজেদের অংশটুকু করছে এবং সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।

আইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাভেদ হোসেইন বলেন, বাংলাদেশের কন্টেইনার ওঠানামার প্রায় পুরোটাই পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। ২১ হাজার টনের একটি জ্বালানি তেলে ট্যাংকার খালাস করতে সময় লাগে ৩ থেকে ৫ দিন, যেখানে সিঙ্গাপুরে এই কাজটি করতে সময় লাগে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। এ ছাড়াও, আমাদের দেশে তৈরি পোশাকের কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগে ৯৫ দিন, যেখানে ভিয়েতনামের লাগে ৬১ দিন এবং চীনের ৩২ দিন। এর কারণ দুর্নীতি।

মূল প্রবন্ধে রিয়ার অ্যাডমিরাল খুরশেদ আলম (অব.) বঙ্গোপসাগর ও সুনীল অর্থনীতি এবং এই খাতের উদীয়মান শিল্পগুলোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত