শরতের আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলছে

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২১ এএম

শরতের মেঘমুক্ত আকাশে আবারও দেখা মিলেছে কাঞ্চনজঙ্ঘার। কখনো শ্বেত শুভ্র, আবার কখনো সূর্যের সোনালি আভায় ধরা দিচ্ছে বরফে ঢাকা হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গ। সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পাহাড়ের রূপ। উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার। তবে সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পাশে মহানন্দা নদীর তীর থেকে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

প্রতি বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে পঞ্চগড় থেকে দেখা মেলে কাঞ্চনজঙ্ঘার। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ভোরের আলো ফুটতেই দূর দিগন্তে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ক্যামেরায় ধারণ করছেন পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য, আবার কেউ মোবাইলফোনে ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্ত। কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা মুগ্ধ। তাদের কাছে এই ভ্রমণ শুধু পাহাড় দেখার অভিজ্ঞতা নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটানোরও সুযোগ। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পাশাপাশি পর্যটকরা ঘুরে দেখছেন মহানন্দা নদীর তীর, বিস্তীর্ণ চা-বাগান ও সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বিভিন্ন স্থান। এতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়ছে।

ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘বন্ধুরা মিলে এখানে এসেছি। উদ্দেশ্য কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। আকাশ পরিষ্কার থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেয়েছি। আমরা অনেক খুশি।’

দিনাজপুর থেকে আসা ইখতিয়ার হোসেন বলেন, ‘অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন শুনেছি। ভোরের দিকে আমরাও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে কিছুটা দেখা গেলেও পরে আবার মেঘ ও কুয়াশায় ঢেকে যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা তার সৌন্দর্য মেলে ধরে।’

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় আজ কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের অবশ্যই আকাশের অবস্থা খেয়াল করে আসতে হবে। তাহলে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব হবে। তাপমাত্রা কমতে শুরু করছে। বর্তমানে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা বিরাজ করছে।’

এদিকে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, ‘শীতের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা পঞ্চগড়ে বেড়াতে আসেন। একই সঙ্গে অনেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতেও আসেন। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত