মেক্সিকোর ‘পেরিকোটিন’ আগ্নেয়গিরিকে আধুনিক যুগের সবচেয়ে কম বয়সী আগ্নেয়গিরি হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ মানুষের চোখের সামনে তার জন্ম ও বিকাশ। ১৯৪৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মেক্সিকোর ‘মিখোয়াকান’ রাজ্যের একটি শস্যক্ষেতে আকস্মিকভাবে আগ্নেয়গিরিটির জন্ম । ‘ডিওনিসিও পুলিডো’ নামের স্থানীয় কৃষক যখন ক্ষেতে কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎ মাটি ফেটে ধোঁয়া এবং ছাই বের হতে দেখেন। এটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬৪ ফুট উঁচু হয়ে যায়। এক সপ্তাহের মধ্যে তা বেড়ে দ্বিগুণ এবং এক বছরের মাথায় উচ্চতা দাঁড়ায় ১,১০০ ফুট। টানা ৯ বছর ধরে (১৯৪৩- ১৯৫২) আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরাম লাভা এবং ছাই উদগিরণ হতে থাকে। ফলে আশপাশের দুটি গ্রামপেরিকোটিন এবং সানজুয়ান পারাঙ্গারিকুটিরিও লাভার নিচে সম্পূর্ণ চাপা পড়ে। বর্তমানে লাভায় ঢাকা সানজুয়ান গির্জার আংশিক ধ্বংসাবশেষ ঘটনার নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানীদের জন্য, পেরিকোটিন ছিল আশীর্বাদের মতো। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা একটি আগ্নেয়গিরির জন্ম, বৃদ্ধি এবং তার শান্ত হয়ে যাওয়ার জীবনচক্র সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫২ সালের পর এই আগ্নেয়গিরিটি সম্পূর্ণ শান্ত বা সুপ্ত হয়ে যায় । এর অর্থ হলো, এই আগ্নেয়গিরিটি তার জীবদ্দশায় মাত্র একবার উদগিরণ সম্পন্ন করেছে এবং ভবিষ্যতে এখান থেকে নতুন করে উদগিরণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।
কম বয়সী আগ্নেয়গিরি
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ এএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৮ এএম
কম বয়সী আগ্নেয়গিরি
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০