সারের ডিলার নিয়োগে ঘুষ-দুর্নীতি, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। বিএনপি নেতারা টাকা নিয়ে, দলীয় পরিচয়ে এবং আত্মীয়দের ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘মজুদ যদি চাহিদার চেয়ে বেশিই থাকে, তাহলে সারের জন্য কৃষকের হাহাকার কেন? সরকারের অব্যবস্থাপনা, কালোবাজারে সার বিক্রি ও চোরাচালানের কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, রংপুরসহ কয়েকটি এলাকায় বিএনপির দলীয় প্যাডে দেওয়া তালিকা থেকে ডিলার নিয়োগ হয়েছে। দিনাজপুর ও রংপুরের বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগও করেন তিনি। ফরিদপুরের নগরকান্দা ও রংপুরের পীরগাছায় অর্থ লেনদেন, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ১০ লাখ টাকা দিয়েও ডিলারশিপ না পাওয়া এবং ভুয়া গোডাউন ও জাল চুক্তিনামার অভিযোগ রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বরিশালে সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের স্বজনদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, নীতিমালা লঙ্ঘন করে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি, অন্য ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং আগে সারের ব্যবসা না করা ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের তালিকার শীর্ষে রাখা এবং জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের নাম বাদ দেওয়ার চাপ ছিল। রাজশাহীর কয়েকটি উপজেলায় বিএনপির সংসদ সদস্যদের তালিকা থেকে নিয়োগের কথাও কৃষি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন।
শুধু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায় সার সংকট হচ্ছেপ্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের এমন বক্তব্য নাকচ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে বিএনপির ১৪ সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় সার সংকটের তথ্য উঠে এসেছে। ডিলার নিয়োগের অনিয়ম তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, যোগ্যতা যাচাই করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগসহ ছয় দফা দাবি এবং সংবিধান সংস্কারে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের এ নেতা।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।