জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই শুরু হচ্ছে লিটন দাসের ওয়ানডে অধিনায়কত্বের নতুন অধ্যায়। গত জুলাইয়ে এই দলটির কাছে ওয়ানডে সিরিজ হারে বাংলাদেশ। এরপর নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন লিটন। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ানডেতে তার নেতৃত্বের প্রথম পরীক্ষাও সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আজ আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে দল গুছিয়ে নেওয়ার অভিযানে শুরুটা তাই সহজ হওয়ার কথা নয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের জন্য।
নতুন দায়িত্বের শুরুতে লিটনের সামনে তাই একসঙ্গে একাধিক চ্যালেঞ্জ। গত সফরের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে জয়ের ধারায় ফেরার পাশাপাশি দলকে বড় টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত করাও তার লক্ষ্য। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে সময় আছে প্রায় এক বছর। এর মধ্যে এশিয়া কাপও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। অধিনায়ক হিসেবে এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে দলের সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে চান লিটন। গতকাল সিরিজ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘সত্যিই, অধিনায়ক হিসেবে এটি আমার জন্য একটি বড় সুযোগ। আমাদের সামনে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ রয়েছে। এশিয়া কাপ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। তাই আমার মনে হয়, সেটির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার এটাই সেরা সময়।’
দুটি বড় টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিটন মনে করেন, দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা এখানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘এখানে প্রস্তুতির সুযোগও ভালো, কারণ এশিয়া কাপে কখনো পাঁচ বা ছয়টি দল অংশ নেয়। আর ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনটি দল খেলে। তাই চাপের দিক থেকে কিছুটা মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই একই ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়।’
বাংলাদেশের জন্য এই ধরনের টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ খুব বেশি আসে না। সর্বশেষ ২০১৯ সালের পর ওয়ানডেতে আর কোনো ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেনি দলটি। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যেমন নতুন অভিজ্ঞতা, তেমনি নিজেদের সীমাবদ্ধতা যাচাইয়েরও সুযোগ। তিন দলের টুর্নামেন্টে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব থাকে আলাদা। একটি হারও পরবর্তী সমীকরণ কঠিন করে তোলে। এই বাস্তবতায় শুরু থেকেই ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দিচ্ছেন অধিনায়ক।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞতার খুব বেশি না থাকায় আফসোস লিটনের কণ্ঠে, ‘আমরা খুব কম ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলি। আমি নিজেও অনেক দিন ধরে ক্রিকেট খেলছি, কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা খুবই কম। আমরা বড় বড় টুর্নামেন্ট, যেমন এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলি। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজ খুব একটা খেলা হয় না। ত্রিদেশীয় সিরিজে একটি বাড়তি চাপ থাকে। তিনটি দলেরই একই চাপ থাকে। কারণ সবাইকে ফাইনালে উঠতে হয়। আমার মনে হয়, এখানেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়। আমি আশা করি, আমাদের ছেলেরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলবে। সাম্প্রতিক কয়েকটি সিরিজে আমরা দারুণ খেলেছি। আমাদের পরিপক্বতাও অনেক বেড়েছে। আশা করি, এখানেও আমরা ভালো ক্রিকেট খেলব।’
নতুন অধিনায়কের কাছে তাই অতীতের ফলের চেয়ে বর্তমানের প্রস্তুতি ও ইতিবাচক মানসিকতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের কাছে হারের স্মৃতি বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা হলেও সেটিকে বাড়তি বোঝা হিসেবে নিতে চান না লিটন, ‘আমার বার্তা একটাই। অতীতে যা ঘটেছে, তা মাথায় রেখে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি, কিন্তু সব সময় অতীতের ফল নিয়ে পড়ে থাকতে পারি না। আগে খারাপ খেলেছি বলে এবারও খারাপ খেলব, এমন মানসিকতা রাখা যাবে না। আমাদের মানসিকতা সব সময় ইতিবাচক রাখতে হবে এবং ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করতে হবে।’
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও লিটনের আত্মবিশ্বাসের বড় জায়গা। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে ছন্দে ফেরার পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তবে অধিনায়কত্বের দায়িত্বে সেই ছন্দ ধরে রাখার সঙ্গে সতীর্থদের কাছ থেকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আদায় করাও হবে তার পরীক্ষা। সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারলে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়বে, পাশাপাশি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের প্রস্তুতিও পাবে গতি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই জিম্বাবুয়েকে দিয়ে অধিনায়কত্বের নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন লিটন।