৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে সুপারিশ পেয়েছিলেন বগুড়ার ফাহিম ফয়সাল। মেধাতালিকায় ৪০তম স্থান অর্জন করে দীর্ঘ চার বছরের পরিশ্রমে স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে ছিলেন তিনি। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম না থাকায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায়। এ ঘটনায় হতাশা ও ক্ষোভে ভেঙে পড়েছেন ফাহিম ও তার পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, ফাহিম বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা মো. খাইরুল বাশার একজন আইনজীবী এবং মা শাহনাজ বেগম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকা। তিনি বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে ২০২২ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০২৫ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহরের চাঁদনী বাজার এলাকায় জনতা ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন।
ফাহিমের প্রথম বিসিএস ছিল ৪৫তম বিসিএস। তার পছন্দ ছিল যথাক্রমে পররাষ্ট্র ক্যাডার, প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডার। ২০২৩ সালে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভাইভা দেন। ওই বছরের নভেম্বরে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে তিনি পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এরপর ৪৬তম ও ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিলেও ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশ পাওয়ার পর আর কোনো ভাইভায় অংশ নেননি। ছিলেন চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষায়। কিন্তু গত ১৪ অক্টোবরে প্রকাশিত নিয়োগের গেজেটে ফাহিমের নাম ছিল না। গেজেটে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে অন্তত ৫৬ জন বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গেজেটে নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফাহিম ফয়সাল ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন ‘আলহামদুলিল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (সুপারিশপ্রাপ্ত), নট গেজেটেড। ঠিক কোন অপরাধে আমাকে গেজেট বঞ্চিত করা হলো, জানি না। রাষ্ট্রের সেটি স্পষ্ট করে জানাতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে, যেন তার প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি। আর যদি কোনো অপরাধ না থাকে, আমাকে আমার প্রাপ্য সুযোগ দেওয়া হোক। ... প্রথম বিসিএসে পছন্দের ক্যাডার পেয়ে যাওয়ায় আর কোনো বিসিএসে অগ্রসর হইনি। পাইপলাইনে ৪৬, ৪৭ ছিল। বেকারদের কথা মাথায় রেখে কাউকে বঞ্চিত করতে চাইনি। সেই আমিই আজ বঞ্চিত।’ সবশেষে হ্যাসট্যাগ দিয়ে তিনি লিখেছেন ‘বঞ্চিত ৫৬ জনের গেজেট চাই’।
এদিকে ছেলের এমন পরিণতিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন ফাহিমের বাবা-মা ও স্বজনরা। মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েও চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম না থাকায় তারা এর কারণ জানতে চান। সামাজিক মাধ্যমেও ফাহিমসহ বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।