মন্ডপে মন্ডপে দেবী বন্দনা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৭ এএম

মহালয়ার দিনে দেবী দুর্গার মর্ত্যলোকে আগমনের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের যে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছিল তা মহাসপ্তমীতে পূর্ণতা পেল। গতকাল শনিবার ছয় দিনের এ উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সারা দেশের মন্ডপে মন্ডপে চলছে দেবী বন্দনা। পূজার্চনা, পুষ্পাঞ্জলির পাশাপাশি হাজার হাজার ভক্তের ভিড়ে মুখরিত পূজামন্ডপগুলো।

গত শুক্রবার ষষ্ঠীতে বেলগাছতলে (বিল্ববৃক্ষ) দেবীর আবাহন, সংকল্প ও ‘ত্রিনয়নী’ দুর্গার নিদ্রা ভাঙানো হয়। পরে কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার্চনায় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। গতকাল মহাসপ্তমীর (এবার মহাসপ্তমী দুই দিনে) দিনে ঢাক-ঢোল কাঁসর বাজিয়ে দশভুজা দেবী তিথিবিহীত পূজা শেষে সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ‘নবপত্রিকা’ অর্থাৎ দুর্গা দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে ৯টি উদ্ভিদকে স্নান করিয়ে পূজা করা হয়। এরপর ষোড়শ উপাচার (১৬ উপাদানে) যেমন আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দন এ রকম উপাদান দিয়ে দেবীকে বরণ ও পূজার্চনা করেন ভক্তরা। পূজার্চনার পর দেবীর কৃপালাভের আশায় তার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা।

এবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে তিথির সম্পর্কের কারণে মহাসপ্তমী পূজা হবে দুই দিনে। সে হিসেবে আজ রবিবারও মহাসপ্তমী অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামীকাল সোমবার মহাষ্টমী, মঙ্গলবার মহানবমী ও বুধবার বিজয়া দশমীতে শেষ হবে ছয় দিনের দুর্গোৎসব।

গতকাল ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসপ্তমীতে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি দিতে ভোর থেকেই ভিড় করেন ভক্ত-পুণ্যার্থীরা। মন্দির প্রাঙ্গণে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে। দেবীর দর্শন ও পূজায় অংশ নিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আসে শিশুরাও। মন্দিরে ছিল বিপুলসংখ্যক ভক্তের আনাগোনা। নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও দেখা গেছে তৎপর। সকাল সাড়ে ৬টায় পূজা শুরু হয়ে শেষ হয় সকাল সাড়ে ১০টায়।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, সকালে বিল্ববৃক্ষের পূজা করে এর একটি ডাল নিয়ে আসা হয়। পরে সেই ডাল নবপত্রিকার সঙ্গে সংযুক্ত করে পূজা করা হয়েছে। ৯টি উদ্ভিদের সমন্বয়ে প্রকৃতির প্রতীক হিসেবে নবপত্রিকা স্থাপন করা হয়। এ সময় দেবীর মূর্তিতে চক্ষুদান, প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও মহাস্নান করানো হয়। নবদুর্গারও মহাস্নান সম্পন্ন করা হয়েছে। নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে মন্দিরে এনে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পূজা শেষে অঞ্জলি দেওয়া হয়। তিনি জানান, আজ সকাল সাড়ে ৬টায় সপ্তমী পূজা হবে।

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আসেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী। তিনি বলেন, নেপাল ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ এই দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গার আশীর্বাদে নেপাল ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক। একই সঙ্গে দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও বাড়ুকএটাই আমাদের প্রত্যাশা। সবার জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ বয়ে আনুক দুর্গোৎসব।

ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন হচ্ছে। কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা ও সারা দেশের পূজাম-পগুলোতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় আমরা সন্তুষ্ট। আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, এ বছর দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজাম-পে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মন্ডপে পূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৬১টি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত