‘সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি’: ইশরাক হোসেন

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ও আত্মরক্ষার্থে ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে ‘খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না। এর ফলে আমার ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

বিবৃতিতে জানানো হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক ও করাতিটোলা এলাকায় মাদকের বিস্তারের বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমন্বিত প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে যান।

ঘটনাস্থলে আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘কর্মসূচি চলাকালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে আমাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসে। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি ও আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী আইনি কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।’

পরবর্তীতে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের সহায়তায় চালানো অভিযানে ৪-৫টি অবৈধ মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, দেশীয় অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মোবাইল জব্দসহ ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
 
কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দূর্ভাগ্যজনকভাবে কয়েকটি গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে। তারা কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’—এই খণ্ডিত দৃশ্যটি প্রচার করেছে, যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী।”

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, “মাদকের আস্তানা উপড়ে ফেলা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা আমার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। খণ্ডিত প্রচারণার মাধ্যমে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না।”
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত