সুগন্ধির মূল রহস্য

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ এএম

মিসরীয়রা বিভিন্ন সুগন্ধি ও উদ্ভিদের নির্যাস তেল বা চর্বিতে মাখিয়ে, এক ধরনের মলম তৈরি করত। বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় মলমটি তারা শরীরে মাখত। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুগন্ধ তৈরি হতো, সুগন্ধি লতা ও গুল্ম পুড়িয়ে। ধারণা করা হয়, রানী  সেবা (মিসর ও ইথিওপিয়ার রানী) ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার বাইরে প্রথম সুগন্ধি ব্যবহার শুরু করেন। প্রাচীন গ্রিসে বীর আলেকজান্ডার, সম্রাট তৃতীয় দারিয়ুসকে পরাজিত করে পারস্যে এলে সুগন্ধি তৈরির কৌশল গ্রিসে নিয়ে যান। মধ্যযুগে সুগন্ধি শিল্পের পুরোটা ছিল আরবদের হাতে। ধারণা করা হয়, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী ইবনে সিনা প্রথম গোলাপ ফুল পাতন করে সুগন্ধি বের করেন। সুগন্ধির মূল রহস্য লুকিয়ে আছে রসায়ন বিজ্ঞান, মানুষের মস্তিষ্ক এবং ঘ্রাণ নেওয়ার জৈবিক প্রক্রিয়ার অপূর্ব  মেলবন্ধনে। সুগন্ধি কীভাবে আমাদের আবেগ, স্মৃতি এবং আকর্ষণকে প্রভাবিত করে তার পেছনে মূল ৪টি রহস্য লুকিয়ে আছে। আমাদের পঞ্চেন্দ্রিয়ের মধ্যে, ঘ্রাণশক্তি সরাসরি মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত। মস্তিষ্কের এই অংশটি আবেগ ও স্মৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো সুগন্ধি শোঁকার সঙ্গে সঙ্গে, মস্তিষ্ক পুরনো স্মৃতি বা কোনো মানুষের কথা মনে করিয়ে দেয়। একটি পারফিউম একেক মানুষের গায়ে একেক রকম গন্ধ ছড়ায়। এর রহস্য হলো ত্বকের পিএইচ লেভেল, তাপমাত্রা,  তৈলাক্ততা এবং শরীরের নিজস্ব গন্ধ। কোনো সুগন্ধির উপাদান যখন ত্বকের তেলের সঙ্গে মিশে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে, তখন সেটি সম্পূর্ণ নতুন ঘ্রাণ তৈরি করে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত