ফার্স্ট ক্লাস ক্যারিয়ারে এবারের লিগ শুরুর আগে ১৪ ম্যাচের ২৬ ইনিংসে সেঞ্চুরি ছিল স্রেফ একটি সেঞ্চুরি। সেই মাহফিজুল ইসলাম রবিন তিন ম্যাচে পাঁচ ইনিংসে করলেন আরও দুই সেঞ্চুরি। রবিবার কক্সবাজার একাডেমি গ্রাউন্ডে ঢাকার বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন ২২ বছর বয়সী ওপেনার। অন্য তিন ম্যাচে ফিফটি পেরোনো ইনিংসে খেলেছেন শুধু জাকির হাসান ও ইমরানউজ্জামান। বোলারদের দাপটে তিন মাঠেই প্রথম দিনে শুরু হয়ে গেছে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংস।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের সুবিধার জন্য এই রাউন্ড শুরু করা হয়েছে এক দিন পিছিয়ে। তবে সিলেটের জাকের আলি ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ ছাড়া কেউই খেলছেন না এই রাউন্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে বিশ্রাম বেছে নিয়েছে মুশফিকুর রহিম, নাঈম হাসান, এবাদত হোসেন চৌধুরি, তাইজুল ইসলাম ও সাদমান ইসলাম।
আবারও মাহফিজুলের সেঞ্চুরি : কক্সবাজারের একাডেমি মাঠে ঢাকার বিপক্ষে প্রথম দিনে ময়মনসিংহের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২২৬ রান। মাহফিজুল ছাড়া কেউই উইকেটে তেমন টিকতে পারেননি। দিনের শেষভাগে তাকে সঙ্গ দেন রিজান হোসেন। শুরু থেকে রয়েসয়ে ব্যাটিংয়ে ১৪৫ বলে ফিফটি করেন মাহফিজুল। পরে রানের গতি বাড়িয়ে ৭১ বলে করে ফেলেন পরের ৫০ রান। দিনের শেষভাগে রিজানের সঙ্গে ৮০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন মাহফিজুল। শেষ পর্যন্ত ২৩৭ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ১১৬ রানে অপরাজিত তিনি। রিজানের সংগ্রহ ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৯১ বলে ৪৩ রান।
একার লড়াইয়ে জাকিরের ফিফটি : চট্টগ্রামের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লা. লে. মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুরের বিপক্ষে একাই লড়াই করেছেন জাকির হাসান। তবে সারা শরীরে ক্র্যাম্প করায় সম্ভাবনাময় ইনিংসটি সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি সিলেট অধিনায়ক।
প্রথম দিনে ১৭৯ রানে গুটিয়ে গেছে সিলেট। পরে ঘণ্টাখানেকের জন্য ব্যাটিংয়ে নেমে রংপুরের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩২ রান। রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিরুদ্ধে দারুণ জবাব দিয়ে ২ চার ও ১ ছক্কায় ১৩৫ বলে ৭১ রান করেন জাকির। দ্বিতীয় সেশনে ইনিংসের ৪৯তম ওভারের প্রথম বল খেলার পর শরীরের বিভিন্ন পেশিতে টান অনুভব করেন তিনি। পরে আর ব্যাটিং চালিয়ে নিতে পারেননি, ফিল্ডিংয়েও নামেননি। টিম ম্যানেজমেন্টের আশা, পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিয়ে দ্বিতীয় দিন মাঠে ফিরবেন অধিনায়ক।
জাকিরের ফিফটি ছাড়া স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কেউ ২৫ রানও করতে পারেননি। জাকের আলি ৫৬ বলে ১৯ রান করে আউট হন। ৯ নম্বরে নেমে ২ ছক্কায় ২৬ রান করেন খালেদ। ফলে ১৭৯ পর্যন্ত পৌঁছায় সিলেট। রংপুরের পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন সম্ভাবনাময় পেসার মেহেদি হাসান ও লেগ স্পিনার স্বাধীন ইসলাম।
ইমরানউজ্জামানের অপরাজিত ফিফটি : সিলেটের একাডেমি মাঠে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন ইমরানউজ্জামান। ২৩ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি তার অষ্টম ফিফটি। এ ছাড়া ৪২ রান করেন তরুণ ওপেনার আজিজুল হাকিম। দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে কাটা পড়ায় ৫০ ছোঁয়া হয়নি তার। এর বাইরে এনামুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেনরা তেমন কিছু করতে না পারায় ২০১ রানে থেমে যায় খুলনার প্রথম ইনিংস। দিনের শেষ সেশনে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭২ রান করে চট্টগ্রাম। আগের রাউন্ডে ৩ অঙ্কের দেখা পাওয়া শাহাদাত হোসেন ২০ রানে অপরাজিত।
বরিশাল-রাজশাহী : তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি রান করেছে বরিশাল। ৬৮.১ ওভারে অলআউট হওয়া দলটির সংগ্রহ ২২৯ রান। পরে ১০ ওভার খেলে সাব্বির হোসেনের উইকেট হারিয়ে রাজশাহী করে ২৪ রান। বরিশালের পক্ষে ফিফটির দেখা পাননি কেউই। ত্রিশছোঁয়া ইনিংস খেলেন চারজন। আগ্রাসী শুরুর পর ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ বলে ৪০ রান করে ফিরে যান তরুণ ওপেনার জাওয়াদ আবরার। উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪১ রান।
শেষ দিকে লেজের সারির দুই ব্যাটসম্যান শহিদুল ইসলাম ও চলতি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (ডব্লিউসিএল) খেলে আসা কামরুল ইসলামের ব্যাটে দুইশ পেরোয় বরিশাল। ৩টি করে চার-ছক্কায় ৩৬ বলে ৩২ রান করেন শহিদুল। কামরুলের সংগ্রহ ৬৩ বলে ৩৬ রান।