ইনফান্তিনোর ঝটিকা সফর

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৬ এএম

মরক্কো থেকে থিম্পু যাওয়ার পথে ঢাকায় প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রাবিরতি। এই সময়ের মধ্যেই বিশ্বফুটবলের বস জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়ন, ফিফার উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতীয় দলের খেলার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। রবিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় ফিফা সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও ফেডারেশনের চার সহসভাপতি।

মরক্কো থেকে ভুটানের রাজধানী থিম্পু যাওয়ার পথে ঢাকায় আসেন ইনফান্তিনো। হিমালয় অঞ্চলের দুর্গম রানওয়েতে অবতরণের উপযোগী বিশেষ উড়োজাহাজে করে পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার আগে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ফিফার ফরোয়ার্ড কর্মসূচির আওতায় থাকা বিপুল অর্থ কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বাফুফের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজারে ১৫ একর সরকারি জমিতে একটি আধুনিক টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ, সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের হাইব্রিড টার্ফ স্থাপন এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে পাওয়া দুটি স্টেডিয়াম আধুনিকায়ন করা হবে। স্টেডিয়াম দুটিতে আধুনিক ফ্লাডলাইট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাফুফে সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, ফিফা সভাপতির সঙ্গে বৈঠকটি আনুষ্ঠানিক না হলেও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ফিফা সভাপতি আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চান। বাংলাদেশ জাতীয় দলের ইউরোপে খেলার আগ্রহের কথাও তাকে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিরতিতে বিভিন্ন মহাদেশের দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয় বলে জানান তাবিথ। বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়েও প্রাথমিক ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন ইনফান্তিনো। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য জানানো হয়নি।

তাবিথ আউয়াল জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর যেকোনোটির নির্মাণকাজ শুরু হলে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সফরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ফিফা সভাপতি। প্রকল্প উদ্বোধনের জন্যও তিনি বাংলাদেশে আসতে চান বলে জানান বাফুফে সভাপতি।

বৈঠকে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ও তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরে বাফুফে। স্টেডিয়ামের আলোকসজ্জায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে ফুটবলকে বাধ্যতামূলক করার একটি জাতীয় নীতির পরিকল্পনার কথা ফিফা সভাপতিকে জানানো হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, ইতালি, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ফুটবলের জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে জাতীয় দলের সফর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ফেডারেশনের। এসব দেশে ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসী দর্শকদের সঙ্গে জাতীয় দলের সংযোগ বাড়াতে চায় বাফুফে।

আঞ্চলিক ফুটবলের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত আমন্ত্রণ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা না দিলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা প্রতিবেশী নেপালের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি। দ্রুত দেশটির আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

ফিফা সভাপতি নির্বাচনে প্রার্থিতা জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো পক্ষকে সমর্থনের ঘোষণা দিতে চায় না বাফুফে। তাবিথ আউয়াল জানান, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা দেখার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইনফান্তিনো বাংলাদেশ সফর নিয়ে এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ‘এবার এটি শুধুই একটি সংক্ষিপ্ত সফর ছিল, তবে খুব শিগগিরই আমাকে ফিরে আসতে হবে এ বিষয়টি নিয়ে আমরা বাফুফে সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করছি। দক্ষিণাঞ্চলে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও একাডেমি তৈরির এবং দেশের অন্যান্য অংশেও বেশ কিছু দুর্দান্ত প্রকল্প রয়েছে।’ ফিফা সভাপতি আরও বলেন, ‘আর আপনারা তো জানেনই, এটি একটি বড় দেশ এবং ফুটবলের দেশ। আমি অবশ্যই ফিরে আসব। খুব শিগগিরই আসার সম্ভাব্য দিনক্ষণ নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করছি। একসঙ্গে ফুটবলে আরও বড় প্রভাব ফেলতে আবারও ফিরে আসব।’

আগামী ২০ অক্টোবর এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) কংগ্রেসে যোগ দিতে থিম্পু থেকে টোকিও যাওয়ার পথে ঢাকায় আবারও সংক্ষিপ্ত ট্রানজিট নেবেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো। তখন অবশ্য তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কানেকটিং ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ২০১৭ সালের পর এটাই বাংলাদেশে তার প্রথম আগমন। এর আগে ১৯৮১ সালে জোয়াও হাভেলাঞ্জ এবং ২০০৬ ও ২০১২ সালে সেপ ব্লাটার বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত