বয়স পেরিয়েছে ৩৯, অর্জনের খাতা ষোলো আনা পূর্ণ। তবুও লিওনেল মেসির গোলক্ষুধা যেন মেটার নয়। শনিবার মেজর লিগ সকারে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে আবারও চিরচেনা জাদুকরী রূপ দেখালেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। প্রথমার্ধে দলের প্রথম গোলে প্রত্যক্ষ অবদান রাখার পর দ্বিতীয়ার্ধে চার মিনিটের ব্যবধানে করলেন দুটি দর্শনীয় গোল। মেসির এই চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যে আটলান্টাকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে এমএলএসে টানা তৃতীয় জয় তুলে নেয় ইন্টার মায়ামি।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের ৪৫তম মিনিটে জার্মেন বেরতেরামের গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি, যে গোলের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন মেসি। এটি চলতি মৌসুমে মেসির ১৫তম অ্যাসিস্ট, যার মাধ্যমে এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিন মৌসুমে অন্তত ১৫টি করে অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন তিনি।
বিরতির পর শুরু হয় আসল ‘মেসি শো’। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে চেনা ভঙ্গিতে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পেনাল্টি বক্সের সামনে বেরতেরামের সঙ্গে চমৎকার ‘ওয়ান-টু’ পাসের পর এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে নিচু নিখুঁত শটে গোলরক্ষক লুকাস হয়োসকে পরাস্ত করেন তিনি। ঠিক চার মিনিট পরই মিলল একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি। এবার লুইস সুয়ারেজের মাপা পাস ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চুরমার করে বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক ফিনিশিংয়ে জালে বল জড়ান এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বল পায়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের খেলানো আর গোলরক্ষকদের অসহায় বানিয়ে একই মহিমায় বারবার লক্ষ্যভেদ করা, এটা তো সেই কবে থেকেই অভ্যাসে বানিয়ে ফেলেছেন মেসি।
চলতি মৌসুমে এগুলো মেসির ২৪ ও ২৫ নম্বর গোল, যার মাধ্যমে লিগের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা আরও শক্ত করলেন তিনি। ম্যাচে শিষ্যের এমন অনন্য সাধারণ পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ মায়ামির কোচ ক্রিস্টিয়ান ‘কিলি’ গনজালেস ম্যাচ শেষে বলেন, ‘সে বিশ্বকে অবাক করা কখনোই থামায় না। সত্যি বলতে, তার মতো একজন ফুটবলার ৩৯ বছর বয়সে এমন পারফরম্যান্স করছে, এটা আমি বিশ্বাসই করতে পারি না। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, সে সত্যিই ফুটবলটা উপভোগ করছে।’
মেসির ১০০০ গোল আর কতদূর?
আটলান্টার বিপক্ষে জোড়া গোলের মাধ্যমে পেশাদার ফুটবলে মেসির মোট গোলসংখ্যা এখন ৯৩৬-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছে। রোনালদোর ১০০০ গোলের মাইলফলক ছুঁইছুঁই করার আবহে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন ওই একটিই প্রশ্ন, মেসিও কি পৌঁছাতে পারবেন হাজার গোলের অলৌকিক সেই শিখরে? আর যদি পৌঁছানই, তবে সেই ঐতিহাসিক ক্ষণে পৌঁছাতে এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার আর কতদিন বা কত ম্যাচ সময় লাগবে? অবশ্য মায়ামি কোচ সময়ের সেই অঙ্ক কষতে যাননি। তার সরল বিশ্বাস, মেসি এটি পারবেন। গনজালেসের ভাষায়, ‘হ্যাঁ, আমি বিশ্বাস করি সে ১০০০ গোলে পৌঁছাবে। কারণ সে চ্যালেঞ্জ ভালোবাসে। সে যা চায়, তা অর্জন করেই ছাড়ে।’
পরিসংখ্যান বলছে, ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার পর থেকে মেসির গোল করার গতি আরও বেড়েছে। ৯০০তম গোলের পর শেষ ৩৯ ম্যাচে তিনি ৩৬টি গোল করেছেন, যেখানে ম্যাচপ্রতি তার গোলের গড় ০.৯২। বর্তমানে ১০০০ গোল ছুঁতে প্রয়োজন আর মাত্র ৬৪টি গোল। নিজের সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আর ৭০টির মতো ম্যাচ খেললেই ১ হাজার গোলের দেখা পেয়ে যাবেন মেসি, যার জন্য চোটমুক্ত থাকলে তার দুই মৌসুমের মতো সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে ১০০০ গোলের এই রেসে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তার বর্তমান গোলসংখ্যা ৯৮১টি। অর্থাৎ ইতিহাস গড়তে পর্তুগিজ তারকা থেকে আর মাত্র ১৯ গোল দূরে। তবে রোনালদোর চেয়ে ৯৪টি ম্যাচ কম খেলে ৯০০ গোলের ক্লাবে পা রাখা মেসির একের পর এক অপ্রতিরোধ্য পারফর্ম এমনটাই বার্তা দিচ্ছে, রোনালদো হয়তো সেখানে আগেই পৌঁছাবেন, তবে সেই কাব্যের শেষ সুর লিখবেন মেসিই।