বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ সেøাগানের সমালোচনা করে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপির কাছে সবার আগে তারা নিজেরা, তাদের পরিবার, সন্তান, ভাগনে, ভাতিজা, শ্বশুর ও স্ত্রী। এই সিন্ডিকেটের হাতে বাংলাদেশকে তুলে দেওয়া হবে না।
গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ‘জুলাই সনদের এক বছর : প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
সাত মাসের মধ্যে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ‘জবাই করা হয়েছে’ মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, আগের স্বৈরাচারী সরকার যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। বিরোধী দল মুখে আঙুল দিয়ে বসে থাকবে না। বিরোধী দলের ৮৯ জন সংসদ সদস্য সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন।
জামায়াত আমির জানান, বিরোধী দল সরকারের পতন নয়, সফলতা চেয়েছিল। এখন তারা ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবেন। সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের সেই সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা নেই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা মেধার অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। কিন্তু সরকার একের পর এক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পর এখন সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) দিকে হাত দিচ্ছে।
কোনো কোনো মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে পদত্যাগ করতে বলছেন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। পিএসসির সদস্যদের এ ধরনের কথা বলার অধিকার কোনো মন্ত্রীর নেই। এর অর্থ, তারা চাকরির এই জায়গা দলীয় লোকজন দিয়ে পূর্ণ করতে চান।
সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কোনো সংসদ সদস্যকে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘এই বস্তাপচা রাজনীতির জন্য চব্বিশে গণঅভ্যুত্থান হয়নি।’
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সরকারি খাসজমিতে মহিষের ঘাস খাওয়ানোর জন্য চাঁদা নেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত মহিষের ওপরও ট্যাক্স বসানো হচ্ছে। মহিষকেও টাকা দিয়ে ঘাস খাওয়াতে হবে। টাকা না দিলে বিষ দিয়ে মহিষ মেরে ফেলা হবে! বিএনপি বদলে গেলেও বিরোধী দল তাদের কথা বদলাবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব।’