জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামী দিনের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৩ এএম

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাকে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম বা জনবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ ও জনগণের আস্থার মধ্যে। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ডের ওপর। তিনি বলেন, ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারত্ব ও দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।

মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই সেনাবাহিনীর জন্ম : বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার পর চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর তিনি রেজিমেন্টের বাংলাভাষী কর্মকর্তা ও সৈনিকদের একত্র করে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। ২৫ মার্চ রাতে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে সশস্ত্র সংগ্রামের নির্দেশ এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তার স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস।

পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি সময়োপযোগী করা হচ্ছে। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকা-সহ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকার সদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন : পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো এলাকাকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ঢাকার আমিনবাজারে গত দুই মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন এর বড় প্রমাণ। পরিবেশের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্ব নিতে হবে। গতকাল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে সড়কের দুই পাশে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় দুই মাস আগে আমিনবাজারের যে অবস্থা ছিল, বর্তমানে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এতে এলাকাটি দৃষ্টিনন্দন হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের মানুষের জন্য সুন্দর পরিবেশে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা বেগমসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে যেসব স্থানে এখনো ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে, সেগুলো উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিকল্পনা নিতে হবে। জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমিনবাজারে পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকা জেলা প্রশাসক অন্য জেলার প্রশাসকদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অন্য জেলার প্রশাসকরাও এ ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে মুখ্য : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। গত রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানী পূজাম-পে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

রাতে প্রধানমন্ত্রী মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজাম-প পরিদর্শনে যান। সেখান পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি বনানীর পূজাম-প পরিদর্শন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

দেশের জন্য সবাইকে কাজ করার আহ্বান : দেশের জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। রাতে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কঠিন সময়ের ভেতর দিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য হাসিল করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে বিত্তশালীদের দাঁড়ানোর আহ্বান জানান জেডআরএফের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত