টিকটকে কখনো তান্ত্রিক, কখনো কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের খাদেম সেজে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন প্রতারক মিজানুর রহমান। হাড়, মাছ ও পাখি দিয়ে কবিরাজির ভিডিও বানিয়ে জাগাতেন অলৌকিক শক্তির বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসকে পুঁজি করে পাতেন প্রতারণার ফাঁদ। এরপর পারিবারিক সমস্যা দূর করার আশ্বাসে দুই শতাধিক লোকের সঙ্গে করেছেন প্রতারণা। হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। গতকাল সোমবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুর রহমান বলেন, চলতি বছরের ৪ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন এক ভুক্তভোগী নারী। ওই নারী জানিয়েছেন, তার কাছ থেকেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ টাকা। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাকে শুনতে হয়েছে অলৌকিক শক্তির ভয়ভীতি।
বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর থেকে মিজানুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ও একাধিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী টিকটকে ‘তান্ত্রিক গুরু জীবন কবিরাজ’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের ভিডিও দেখে এর পরিচালনাকারীর সঙ্গে পরিচিত হন। পারিবারিক সমস্যার সমাধানের আশায় পরে ইমু ও মোবাইলফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখনই শুরু হয় প্রতারণার ফাঁদ।
অভিযোগ অনুযায়ী, কথিত তান্ত্রিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে কবিরাজির বিভিন্ন উপকরণ কেনার কথা বলেন। এভাবে ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে ওই নারীর কাছ থেকে মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমস্যার সমাধান না পেয়ে টাকা ফেরত চান ভুক্তভোগী। অভিযোগ, তখন তাকে বিভিন্ন অলৌকিক শক্তির ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন জানান, কথিত তান্ত্রিক অন্তত হাজার খানেক লোকের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুই শতাধিক লোক তার কথায় বিশ্বাস করে টাকা পয়সা দিয়েছেন। অনেকে এক দুইবার টাকা দিয়ে বুঝতে পেরে আর যোগাযোগ করেনি। টাকার অঙ্ক ছোট থাকায় অনেকে প্রতারণার শিকার হয়েও অভিযোগ করেননি। কিন্তু ভুক্তভোগী ওই নারীর কাছ থেকে সব চেয়ে বেশি টাকা আদায় করায় তিনি প্রতারণা বুঝতে পেরে আইনের সহায়তা নিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কারকে পুঁজি করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণা করে আসছে। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করব, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত কথিত তান্ত্রিক, কবিরাজ বা অলৌকিক সমস্যা সমাধানের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন থাকুন। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান।
মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলেও তিনি জানান।